জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে ‘ভুল’ বোঝাবুঝি মেটাতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। আর সেক্ষেত্রে রাজ্যের পুজোর প্রাঙ্গণকেই ব্যবহার করতে চায় তারা। 

অসমের নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকপঞ্জি করার কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারি ভাবে তেমন কোনও ঘোষণাও এখন পর্যন্ত করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এনআরসি নিয়ে রাজ্যবাসীর আতঙ্ক কাটেনি। সেই আশঙ্কার মেঘ কাটাতে এ বার পুজোকে হাতিয়ার করছে বঙ্গ বিজেপি। 

পুজোর সময়ে শহরের বড় পুজোয় স্টল থাকবে বিজেপির। তবে সব বড় পুজোয় স্টলের জায়গা মিলবে না, তা বিলক্ষণ বুঝছেন বঙ্গ বিজেপি নেতারা। এক নেতার কথায়, ‘‘শহরের সব বড় পুজোয় হয়তো স্টলে দেওয়া যাবে না। কিন্তু অন্য বারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি স্টল এ বার আমরা দেব। জেলার যে সব পুজোয় জনসমাগম বেশি হয়, সেখানেও থাকবে স্টল।’’ ওই সব স্টল থেকে মানুষকে বোঝানো হবে কেন বঙ্গে নাগরিকপঞ্জি প্রয়োজন। স্টলে নাগরিকপঞ্জি সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টার, হোর্ডিং থাকবে। প্রচারপত্রও তৈরি করা হচ্ছে, যা আমজনতার কাছে পৌঁছে দেবেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, নাগরিকপঞ্জি সংক্রান্ত হিন্দি-ইংরেজি পুস্তিকাও বাংলায় অনুবাদের কাজ চলছে। যা স্টল থেকে বিক্রিও করবেন বিজেপি। 

শুধুমাত্র পুজো প্রাঙ্গণে বিজেপির প্রচার সীমিত থাকছে না বঙ্গ বিজেপি। একইসঙ্গে অক্টোবরের শুরুতে রাজ্যে আসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির। তিনি নাগরিকপঞ্জির স্বপক্ষে সভাও তাঁর কর্মসূচিতে থাকতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।  

কিন্তু  নাগরিকপঞ্জি যদি আমজনতার হিত করে,  তাহলে কেন আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে? সে প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলছেন এ রাজ্যের বিজেপির নেতৃত্ব। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘রাজ্যের শাসকদল মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আমাদের এখন সংগঠন বুথ স্তর পর্যন্ত আছে। আমাদের কর্মীরা সঠিকটা  মানুষকে বোঝাবেন। একজন হিন্দুর নামও বাদ পড়বে না। আগে নাগরিকত্ব বিল হবে। তারপরে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকপঞ্জি হবে। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’’ পুজো মিটলেই এসব নিয়ে আরও বড় করে প্রচারে ঝাঁপাবে বিজেপি। 

পুজোতে নাগরিকপঞ্জির পাশাপাশি কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপ নিয়েও প্রচার করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি।