এক দিকে, হোলির সময় থেকেই জমিয়ে রাখা লাল আবির৷ কিন্তু খেলার কেউ নেই৷

আরেক দিকে, বেলা বাড়তেই শুরু গেরুয়া আবিরের খোঁজ৷ দুপুর হতেই যা দিয়ে শুরু হয়ে গেল উচ্ছ্বাস৷

জলপাইগুড়ির ডিবিসি রোডে সামান্য ব্যবধানে দু’টি জেলা পার্টি অফিস অবস্থিত৷ একটি সিপিএমের, অন্যটি বিজেপির৷ ত্রিপুরা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরু হতেই বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে সবাই তাসা বাজিয়ে নাচতে নাচতে আবির খেলতে ব্যস্ত। ঠিক তখন সিপিএম অফিস ডুবে থাকল অন্ধকারে৷

অথচ এমনটা হবে, ভাবতে পারেননি ওঁরা কেউই৷

ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সমীক্ষার ফল যা-ই বলুক না কেন, জলপাইগুড়ির রাজনীতিকদের অনেকেরই ধারণা ছিল, এ বারও ফের বামেরাই সেখানে ক্ষমতায় আসবে৷ খুব বেশি হলে তাদের সেই জয়ের প্রাসাদে খানিকটা আঘাত হানতে পারে বিজেপি৷ আর তাই সকাল থেকেই সিপিএম অফিসে দলের কয়েক জন নেতা টিভি খুলে সামনে বসে পড়েছিলেন৷ উল্টো দিকে বিজেপি পার্টি অফিসের টিভিটা নষ্ট থাকায়, তা ঠিক করারও ঝুঁকি নেননি দলের জেলা নেতারা৷ পাছে টিভি ঠিক করার পরই ত্রিপুরায় দলের হার দেখতে হয়!

কিন্তু ভোট গণনা শুরু হতেই পালা বদলের ইঙ্গিত আসতে শুরু করল। তখন ছবিটা একেবারে বদলে গেল৷ সুইচ বন্ধ হয়ে গেল সিপিএম পার্টি অফিসের ভেতরে থাকা টিভির৷ আর টিভি সারাই না হওয়ায় মাঝারি নেতাদের ধমকধামক শুরু করলেন বিজেপি পার্টি অফিসে থাকা জেলা নেতারা৷ অতি দ্রুত যে টিভি সারাই সম্ভব নয়, সে কথা বুঝতে পেরে শেষ পর্যন্ত হোয়াটস্‌অ্যাপে কিংবা নেটে ফল দেখতে থাকলেন তাঁরা৷ মোবাইলে একটি করে আসনের খবর আসে, আর চেঁচিয়ে ওঠেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

সিপিএম সূত্রের খবর, দোলের দিনই দলের এক যুব নেতা প্রস্তাবটা দিয়েছিলেন যে, শনিবার ত্রিপুরা জয়ের পর পার্টি অফিসের সামনেই আবির খেলা হবে৷ তার সেই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন বাকি যুব ও ছাত্র নেতারাও৷ কিন্তু এ দিন সেই নেতাদের কাউকেই পার্টি অফিসের সামনে দেখা যায়নি৷ দলের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য বলেন, ‘‘শনিবার ফের একটা অকাল হোলির পরিকল্পনা ছিল৷ সেটা শেষ পর্যন্ত হল না ঠিকই৷ কিন্তু তা বলে আমাদের নেতা-কর্মীদের মনোবল ভাঙবে না৷ কারণ যারা মানুষের সঙ্গে থাকে তাদের মনোবল ভাঙে না৷’’

সিপিএম নেতারা যখন এমন কথা বলছেন, তখন বিজেপির উত্তরবঙ্গের সহকারী আহ্বায়ক দীপেন প্রামাণিকের কথায়, ‘‘হাত-কে অনেক হারিয়েছি৷ এ বার কমিউনিস্টদেরকেও হারালাম৷ আর তাতে করেই আমাদের কর্মীরা পঞ্চায়েতে জোড়া ফুলকে হারানোরও অক্সিজেন পেয়ে গেলেন৷’’

যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ত্রিপুরা জয়ের পর বিজেপি নেতারা যদি মনে করেন তাঁরা এ রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও কিছু করে দেখাবেন, তা হলে বলব, ওঁরা মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন৷ জলপাইগুড়ির বেশির ভাগ আসনে বিজেপি প্রার্থীই দিতে পারবে না৷’’