ডাক্তারির স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমে ভর্তির জন্য রাজ্য সরকার দু’টি পৃথক মেধা-তালিকা প্রকাশ করেছিল। কেননা কর্মরত সরকারি চিকিৎসকদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সোমবার নির্দেশ দিয়েছে, এমডি-এমএসে ভর্তির জন্য সম্মিলিত মেধা-তালিকা প্রকাশ করতে হবে। রাজ্য সরকারকে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশ, সম্মিলিত মেধা-তালিকা চাই ১৫ দিনের মধ্যে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এমডি-এমএসে কর্মরত সরকারি চিকিৎসকদের ভর্তির জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের নীতি নেওয়া হয়। সেই নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত এপ্রিলে হাইকোর্টে মামলা করেন চিকিৎসক মহম্মদ নাজির হোসেন-সহ কয়েক জন। তাঁরা জানান, ওই সংরক্ষণ নীতি মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া বা এমসিআই-এর নির্দেশিকার বিরোধী। এমসিআই-এর নির্দেশিকা বলছে, কোনও চিকিৎসক রাজ্যের প্রত্যন্ত বা দুর্গম এলাকার সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করলে তাঁকে চাকরির বছর-পিছু বাড়তি ১০ নম্বর দিতে হবে। সেই বাড়তি নম্বর যুক্ত হবে এমডি-এমএসের প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে। তার ভিত্তিতেই মেধা-তালিকা তৈরি করতে হবে। কিন্তু রাজ্যের সংরক্ষণ নীতিতে পৃথক কোটা থাকছে শুধু কর্মরত সরকারি চিকিৎসকদের জন্য। যেটা এমসিআই-এর নির্দেশিকার পরিপন্থী।

এমসিআই-এর কৌঁসুলি সুনীত রায় জানান, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য রাজ্য সরকার পৃথক দু’টি মেধা-তালিকা প্রকাশ করেছিল। এমডি-এমএসে ভর্তির সর্বভারতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য ৬০ শতাংশ আসন রেখে একটি তালিকা তৈরি করা হয়। কর্মরত সরকারি চিকিৎসকদের জন্য (তাঁদেরও সর্বভারতীয় প্রবেশিকা দিতে হয়েছে) ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করে তৈরি হয় অন্য তালিকা।

ওই আইনজীবী জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, এমডি-এমএসে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে চলতি বছরের ৩১ মে-র মধ্যে। সেই তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় ১৫ দিনের মধ্যে সম্মিলিত মেধা-তালিকা প্রকাশের নির্দেশের সঙ্গেই জানিয়ে দেন, নতুন তালিকার ভিত্তিতে যাঁরা ভর্তি হবেন, তাঁরা ভর্তির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস জানান, এই রায়ে এমডি-এমএসে সদ্য ভর্তি হওয়া চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। কারণ, সম্মিলিত তালিকা প্রকাশের পরে কারা থাকবেন আর কারা বাদ পড়বেন, সেটা বলা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অন্তত এ বছর যাতে আসন-বিন্যাস রক্ষা করা যায়, সেই বিষয়ে রাজ্যের সচেষ্ট হওয়া উচিত। নইলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।