মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া বা এমসিআই-এর নির্দেশিকা মেনে এমডি-এমএস পড়তে চাওয়া চিকিৎসকদের মেধা-তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার যে-আপিল মামলা দায়ের করেছিল, বিচারপতি সম্বুদ্ধ চক্রবর্তী ও বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার তা খারিজ করে দিয়েছে।
এমসিআই-এর নির্দেশিকা মেনে এমডি-এমএস পড়ার মেধা-তালিকা তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ তুলে এপ্রিলে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের আদালতে মামলা করেছিলেন চলতি বছরের এমডি-এমএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন চিকিৎসক। তাঁদের বক্তব্য, এমসিআই-এর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রত্যন্ত গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বাড়তি নম্বর দেওয়া যেতে পারে। কর্মরত চিকিৎসকদের বাড়তি নম্বর দিয়ে সাধারণ মেধা-তালিকা প্রকাশ না-করে রাজ্য খুশিমতো তাদের নিজস্ব ‘কোটা’ তৈরি করেছে, যা বেআইনি।
মামলার আবেদনে চিকিৎসকেরা জানান, এমডি-এমএস পড়ার জন্য দ্বিতীয় ও শেষ দফার কাউন্সেলিং চলছে। কাউন্সেলিং শেষ হয়ে গেলে তাঁরা ভাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিংয়ের উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেন। পরে তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২৪ মে করা হয়। একই সঙ্গে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় রাজ্যকে নির্দেশ দেন, ২২ মে-র মধ্যে এমসিআই-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রত্যন্ত গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় কর্মরত চিকিৎসদের তালিকা আদালতে পেশ করতে হবে।
হাওড়া আদালতের আইনজীবীদের উপরে পুলিশের লাঠি চালানোর ঘটনায় রাজ্য জুড়ে আদালতের কাজ করছেন না আইনজীবীরা। মামলাকারী চিকিৎসকেরা এ দিন নিজেরাই ডিভিশন বেঞ্চে হাজির হন। হাইকোর্টের সরকারি কৌঁসুলিরা ছিলেন না। রাজ্য সরকারের হয়ে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের আইন বিভাগের যুগ্মসচিব শুভঙ্কর সেন। তিনি ডিভিশন বেঞ্চে জানান, কাউন্সেলিংয়ে ডাক পাওয়া কোন কোন চিকিৎসক প্রত্যন্ত গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় কাজ করেছেন, তার তালিকা রাজ্যের হাতে নেই। তা ছাড়া সেই তালিকা তৈরির সময়ও কম।
চিকিৎসকদের আইনজীবী অমিয় দত্ত, স্বদেশপ্রিয় ঘোষেরা জানান, তাঁদের মক্কেলরা আজ, বুধবার বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের আদালতে হাজির হয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ ফের বাড়ানোর আবেদন করতে পারেন। মামলাকারী চিকিৎসক মহম্মদ নাজির হোসেন ও অমূর্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্য সাধারণ মেধা-তালিকা আদালতে পেশ না-করলে প্রয়োজনে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে।

এ দিন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসকেরা গ্রামে কাজ করতে যান কর্মরত অবস্থায় এমডি-এমএস পড়ার সুযোগ পেতে। সেই সুযোগ কেড়ে নেওয়া হলে তাঁরা গ্রামে চাকরি করতে যাওয়ার উৎসাহ হারাবেন।