এক মাস বা দু’মাস নয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ রাজ্য সরকার ১৫ মাসেও রূপায়ণ করতে পারেনি! সরকারি কর্তাদের এই মনোভাব দেখে বিচারপতি যারপরনাই বিস্মিত।

সরকারি প্রকল্প অনুযায়ী (পশ্চিমবঙ্গ প্রতিবন্ধী পেনশন প্রকল্প ২০১০) এক প্রতিবন্ধী কলেজছাত্রীকে মাসে ১০০০ টাকা পেনশন দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করে দেখতে দু’বছর আগে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক। ১৫ মাসেও সেই নির্দেশ রূপায়িত না-হওয়ায় বুধবার বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি।

ঘটনাটি কী? দক্ষিণ ২৪ পরগনা সোনারপুর আরাপাঁচ গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা মণ্ডলের প্রতিবন্ধী মেয়ে দীপা সোনারপুর কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পূর্ণিমাদেবীর আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায়চৌধুরী বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘২০১২ সালে এই প্রতিবন্ধী পেনশনের জন্য আমার মক্কেল সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধান, বিডিও, এসডিও এবং জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছ থেকে তিনি কোনও জবাব পাননি। ২০১৭ সালে মেয়ের জন্য প্রতিবন্ধী পেনশনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর বিচারপতি বসাক সোনারপুরের বিডিও-কে নির্দেশ দেন, এক মাসের মধ্যে পূর্ণিমাদেবীর আর্জি বিবেচনা করে দেখতে হবে।’’

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বিডিও গত বছর ১২ ফেব্রুয়ারি চিঠি লিখে পূর্ণিমাদেবীকে জানান, তাঁর আবেদন ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বিডিও বিবেচনা না-করায় চলতি মার্চের প্রথম সপ্তাহে ফের বিচারপতি বসাকের আদালতে মামলা করেন পূর্ণিমাদেবী। সেই মামলায় বুধবার বিচারপতি বসাক প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি কেন?’’ পূর্ণিমাদেবীর আইনজীবী ইন্দ্রজিৎবাবু জানান, ওই দিন সরকার পক্ষের কোনও কৌঁসুলি হাজির ছিলেন না। সেটা জানানোর পরে বিচারপতি বসাক ইন্দ্রজিৎবাবুকে বলেন, পরবর্তী শুনানির দিন হাজির থাকার নির্দেশ তিনি যেন সরকারি আইনজীবীকে জানিয়ে দেন।