কেন্দ্রীয় মূল্যায়নে মানের দিক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে টেক্কা দেওয়ার পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সোমবার প্রকাশিত মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের ‘র‌্যাঙ্কিং (এনআইআরএফ)-২০১৯’ থেকে জানা যাচ্ছে, কলকাতা থেকে পাশ করে বেরিয়ে ছাত্রছাত্রীরা যাদবপুরের পড়ুয়াদের তুলনায় বেশি বেতনের চাকরি পাচ্ছেন। দেখা যাচ্ছে, ছাত্রী ভর্তি এবং অন্য রাজ্যের পড়ুয়ার সংখ্যাতেও যাদবপুরের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে কলকাতা।

এই র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কেই তথ্য পাঠাতে হয়। কলকাতার পাঠানো তথ্যে দেখা যাচ্ছে, তিন বছরের স্নাতক কোর্স এবং দু’বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স— এই দু’টিতে সব থেকে বেশি পড়ুয়া ভর্তি হন। তিন বছরের স্নাতক কোর্সে মোট পড়ুয়া-সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৪৪৫। যার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১৪১৭। ভিন্‌ রাজ্যের পড়ুয়ার সংখ্যা ৫৭৮। অর্থাৎ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ ছাত্রী। ভিন্‌ রাজ্যের পড়ুয়া প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্য দিকে দু’বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সে মোট পড়ুয়া ১১,৫৩৪ জন বলে জানানো হয়েছে। যাঁদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৭১৫৮। অর্থাৎ ৬২ শতাংশই ছাত্রী।

এই র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচটি বিষয়ের উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হল টিচিং লার্নিং অ্যান্ড রিসোর্সেস, রিসার্চ অ্যান্ড প্রফেশনাল প্র্যাক্টিস, গ্র্যাজুয়েশন আউটকামস, আউটরিচ অ্যান্ড ইনক্লুসিভিটি এবং পারসেপশন। দেখা যাচ্ছে, টিচিং লার্নিং অ্যান্ড রিসোর্সেস, গ্র্যাজুয়েশন আউটকামস এবং আউটরিচ অ্যান্ড ইনক্লুসিভিটি-তে যাদবপুরের থেকে এগিয়ে গিয়েছে কলকাতা। অন্য দু’টিতে যাদবপুর এগিয়ে। টিচিং লার্নিং অ্যান্ড রিসোর্সেসে কলকাতা পেয়েছে ৬২.২৬। যাদবপুরের প্রাপ্তি ৫৪.৪০। গ্র্যাজুয়েশন আউটকামসে কলকাতা পেয়েছে ৯১.৫৪। যাদবপুর ৯০.২৮। আউটরিচ অ্যান্ড ইনক্লুসিভিটি-তে কলকাতা পেয়েছে ৬০.১৪। যাদবপুরের প্রাপ্তি ৪৪.৯৫। কলকাতার মোট প্রাপ্ত নম্বর ৬০.৮৭। এবং যাদবপুরের ৬০.৫৩।

আউটরিচ অ্যান্ড ইনক্লুসিভিটিতে বিচার্য হল পড়ুয়াদের মধ্যে আঞ্চলিক বৈচিত্র, ছাত্রী, সামাজিক এবং আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়ার সংখ্যা এবং প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের জন্য সুযোগ-সুবিধা। দেখা যাচ্ছে, তিন বছরের স্নাতক কোর্সে কলকাতা ছাত্রী ভর্তির সংখ্যায় এবং ভিন্‌ রাজ্যের পড়ুয়ার সংখ্যায় যাদবপুরকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। দু’বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সে ছাত্রী ভর্তিতেও এগিয়ে কলকাতা। এই দুই কোর্সের পরিসংখ্যান দেখে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে-বাইরে অনেকেই অবাক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) দীপক করকে ফোন ও মেসেজ করেও এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।