সারদা-কাণ্ডে জেরা করার জন্য আইপিএস রাজীব কুমারের হদিস পেতে নবান্নে হাজির হয়েছে সিবিআই। অতীতে নানা ঘটনায় তদন্ত অনেক হলেও রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে এ ভাবে গোয়েন্দাদের কড়া নাড়ার ঘটনাকে ‘বেনজির ও কলঙ্কজনক’ বলেই আখ্যা দিচ্ছে বিরোধীরা। রাজীব স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ অফিসার হওয়ায় এই ঘটনা অন্য মাত্রা পেয়েছে বলে তাদের মত।

রাজীব কোথায় জানতে চেয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়েছে সিবিআই। নবান্নে রবিবার সিবিআই আধিকারিকেরা গিয়েছিলেন চিঠি নিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘‘কখনও কোনও সরকারের আমলেই রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে সিবিআইকে যেতে হয়নি। রাজীবের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় বসেছিলেন। এখন মুখ্যমন্ত্রী দায় এড়াতে পারেন না।’’ স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি-দের নিয়ে টানাটানির প্রসঙ্গ এনে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘অসৎসঙ্গে সর্বনাশ বলে একটা কথা আছে, সেটাই দেখা যাচ্ছে! কিছু আড়াল করার না থাকলে রাজীব এত লুকোচুরিই বা করছেন কেন? তাঁর অবস্থা দেখে সব অফিসারের শিক্ষা নেওয়া উচিত।’’ বীরভূমে গিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ও এ দিন বলেছেন, ‘‘আমাকেও তো দু’বার সিবিআই ডেকেছিল। রবীন দেব, সোমেন
মিত্রকেও ডাকা হয়েছিল। তবে কি রাজীবের মুখ থেকে কোনও গোপন তথ্য বেরিয়ে পড়বে বলেই এত ভয়?’’ তৃণমূলের নেতা তথা মন্ত্রী তাপস রায়ের পাল্টা বক্তব্য, ‘‘আইনের পথে যা হওয়ার, হবে। আর মুকুলবাবু সিবিআই, ইডি থেকে বাঁচতে বিজেপিতে চলে গিয়েছেন। ওঁর মুখে এ সব কথা শোভা পায় না!’’