নারদ নিউজের কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল এবং ধৃত আইপিএস এসএমএইচ মির্জার এক আত্মীয় তাজদার আলি মির্জা ওরফে টাইগারকে নিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের ভবানীপুরের বাড়িতে স্টিং অপারেশনের পুনর্নির্মাণ করতে চায় সিবিআই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ওই পুনর্গঠন করা হবে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। এর আগে মুকুলের উপস্থিতিতে মির্জাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছিল সিবিআই। 

সিবিআই কর্তাদের দাবি, স্টিং অপারেশনের জন্য ম্যাথু যখন মুকুলের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন, তখন টাইগার নামে এক স্কুল শিক্ষক তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি মির্জার খুড়তুতো ভাই। ২০১৪ সালে বর্ধমানে পুলিশ সুপারের বাসভবনে যখন মির্জার হাতে টাকা দিয়েছিলেন ম্যাথু, তখনও তিনি উপস্থিত ছিলেন। যে হেতু তিনি কোনও আর্থিক লেনদেনে যুক্ত ছিলেন না, তাই তাঁর নামে এফআইআর করা হয়নি। তবে বার কয়েক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই টাইগার ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে মুকুল ও ম্যাথুর সব কথাবার্তা ও লেনদেনের অন্যতম সাক্ষী বলেই তাঁকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে সিবিআই সূত্রের বক্তব্য। 

মুকুল দাবি করেছেন, তিনি ম্যাথুর কাছ থেকে কোনও টাকা নেননি। স্টিং অপারেশনের ভিডিয়োতে তাঁকে টাকা নিতে দেখাও যায়নি। যদিও সিবিআইয়ের বক্তব্য, মির্জা গোয়েন্দাদের বলেছেন, মুকুলের নির্দেশেই তিনি ম্যাথুর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২০১৪-র লোকসভা ভোটের আগে আরও কয়েক জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে এসে মুকুলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এই দুই দাবির মধ্যে কোনটা সত্যি তা জানতে ম্যাথু, মুকুল, মির্জা ও টাইগারকে একসঙ্গে বসাতে চায় সিবিআই। 

বুধবার ম্যাথুকে ফের ঘণ্টা তিনেক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ম্যাথু বলেন, ‘‘তৃণমূল সাংসদ তথা তহেলকা সংবাদ সংস্থার মালিক কেডি সিংহের নির্দেশেই নারদ স্টিং অপারেশন করেছিলাম। কেডি সিংহের অর্থ লগ্নি সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে নারদ স্টিং অপারেশনে নেতা-মন্ত্রীদের দিয়েছি। ওই বিষয়ে কেডি সিংহের সঙ্গে ই-মেলে যা কথা হয়েছিল, তার সব কপি-সহ নানা নথি এ দিন জমা দিয়েছি।’’