জ্বরে ভুগে মৃত্যু হল এক শিশুর। বুধবার রাতে কলকাতার বিধান রায় শিশু হাসপাতালে মারা যায় মিরাজুল গাজি (৪) নামে  বসিরহাটের ত্রিমোহণী এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই শিশু। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, ডেঙ্গি হয়েছে মিরাজুলের। মৃত্যুর শংসাপত্রে কারণ হিসাবে অবশ্য লেখা হয়েছে, ‘হেমারেজিক ফিভার উইথ শক।’

ক’দিন আগে নৈহাটিতে ডেঙ্গিতে মারা যান শুক্লা চক্রবর্তী নামে এক বৃদ্ধা। ভদ্রেশ্বরেও অমর বন্দ্যোপাধ্যায় নামে মাঝবয়সী এক জনের মৃত্যু হয় জ্বরে। পরিবারের দাবি, তাঁরও ডেঙ্গি হয়েছিল। কলকাতার নানা প্রান্তে ডেঙ্গিতে মারা গিয়েছেন আরও কয়েক জন। বসিরহাট পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বসিরহাট জেলা হাসপাতালের সুপার শ্যামল হালদার বলেন, ‘‘জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আপাতত ২০ জন ভর্তি। দু’জনের রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে।’’ 

বসিরহাট পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষায় কয়েক জনের রক্তে এনএস-১ পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে।

ত্রিমোহণীর খাদিমুল ইসলাম গাজির ছেলে মিরাজুল গত তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসককে দেখানো হয় তাকে। মঙ্গলবার রাতে কয়েকবার বমি করায় বুধবার তাকে কলকাতায় আনা হয়। রাত ১০টা নাগাদ মারা যায় মিরাজুল।

বসিরহাটের পুরপ্রধান তপন সরকার বলেন, ‘‘ডেঙ্গিতে শিশুমৃত্যুর বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। পুরসভার সব কাউন্সিলরদের মশা মারার তেল স্প্রে করার পাশাপাশি নিকাশি নালা পরিষ্কার এবং চুন-ব্লিচিং ছড়ানোর দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।’’