সবংয়ের কলেজে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনাকে মর্মান্তিক ঘটনা বলে প্রথমে নিন্দা করলেও পরে কার্যত ঘটনাটিকে ছাত্র পরিষদের নিজেদের গণ্ডগোল বলে বিতর্ক সৃষ্টি করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুক্রবার দুপুরে সবংয়ের সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় প্রথম বর্ষের ছাত্র কৃষ্ণপ্রসাদ জানাকে। ছাত্র পরিষদ সমর্থক ওই ছাত্রকে খুনে অভিযোগের আঙুল ওঠে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী থেকে এলাকার বিধায়ক, প্রত্যেকেই যখন ঘটনার পিছনে টিএমসিপির জড়িত থাকার অভিযোগ করছেন, তখনই দলের ছাত্র সংগঠনকে কার্যত ক্লিনচিট দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এবং তা দিলেন তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই। ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বললেও কার্যত দায় চাপালেন বিরোধী ছাত্র সংগঠনের উপরেই।

উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সবং কলেজে ছাত্র সংঘর্ষে কৃষ্ণপদ (আসলে প্রসাদ) জানা নামে একটি ছেলে মারা গিয়েছে। ছেলেটি ছাত্র পরিষদের। ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমি এর নিন্দা করছি।’’ এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘‘ছাত্র পরিষদের ইউনিয়ন রুমের ভিতরে সংঘর্ষ হয়। ইউনিয়নটি কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের। তৃণমূলের ইউনিয়ন নয়। ইউনিয়ন রুম লক করে সংঘর্ষ হয় ভিতরে। ব্যাটের আঘাতে মারা যায়।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘নিজেদের মধ্যে ধস্তাধস্তি করে ছেলেটি মারা গিয়েছে। ঘটনাটা না ঘটলেই পারত।’’

মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এমন দাবি করেননি যে, ঘটনাটি ছাত্র পরিষদ কর্মীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের। কিন্তু যে ভাবে তিনি বারবার ছাত্র পরিষদের কথা উল্লেখ করেছেন, তাতে ইঙ্গিতটা সেই দিকে বলেই বিরোধীদের বড় অংশের দাবি। পরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর সুরেই বলেন, ‘‘জানা গিয়েছে, নিজেদের মধ্যে গোলমালেই এই ঘটনা। ওই কলেজের ৩১টি আসনের সব ক’টিই তো ছাত্র পরিষদের দখলে! এরা কলেজের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে রেখেছিল।’’

মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসকদলের এ হেন দাবির বিরোধিতা করেছে সব বিরোধীদলগুলিই। এলাকার বিধায়ক মানস ভুঁইয়া সরাসরি বলেছেন, “অসত্য কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী।” প্রায় একই দাবি করে কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘‘এ বারও ঘটনাটাকে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।’’ পথে নেমে এই আক্রমণের নিন্দা করার কথা বলেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

বিরোধীরা যা-ই বলুক, তৃণমূল অবশ্য দায় ঝাড়তে মরিয়া। তাই পুলিশকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশেও থাকছে প্রশ্ন।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...
 

ভয়ঙ্কর ঘটনা, স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল