সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান দিয়ে হাতে হাতে চেক নিয়ে যাওয়ার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী চাষিদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘ফড়েদের পাল্লায় পড়বেন না। ওরা আপনাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে। আপনাদের কাছ থেকে কম টাকায় ধান কিনে নিয়ে বেশি দামে সরকারকে বিক্রি করছে।’’

সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘‘আমরা ফড়েরাজ বন্ধ করবোই। কয়েক দিনের মধ্যেই ধান দিয়ে চেক নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে।’’

ফসল বিমা নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘ওই বিমায় রাজ্য সরকার আশি টাকা দেয়। আর কেন্দ্রীয় সরকার ২০ টাকা দেয়।’’ সম্প্রতি সাগর ও উলুবেড়িয়ায় 

কেন্দ্রীয় বিমা সংস্থাগুলির বিমাকৃত রাশির টাকা কয়েক জন চাষির অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। দিল্লির মোদী সরকার সেই টাকা পাঠিয়েছে বলে গ্রামে গ্রামে প্রচারও হয়েছে।  সে কথা শুনে মমতা এ দিন বলেন, ‘‘বিমার প্রিমিয়ামের টাকা মিটিয়েছে রাজ্য। এখন বিমার টাকা দিয়ে দিল্লি কৃতিত্ব দাবি করছে। এ ভাবে চাষিদের সঙ্গে প্রতারণা হচ্ছে।’’

মমতা জানান, বিজেপির শাসন কালে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছে। সব কাগজপত্র জোগাড় করা হচ্ছে। মা-মাটি-মানুষের সরকার কৃষকের সরকার, গরিবের সরকার।

কন্যাশ্রীর উপভোক্তা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অফিসারদের নিরপেক্ষ হয়ে  কাজ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘‘ দলের বিচার করবেন না। সমস্ত পরিবারের ছাত্রীরাই কন্যাশ্রীর সুবিধা পাবে। আপনারা যত্নবান হয়ে সেই কাজ করার চেষ্টা করুন।’’

চাষি, গরিব মানুষ, মহিলাদের সশক্তিকরণে তাঁর সরকার যখন ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করছে, তখন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিভাজনের রাজনীতিতেই ব্যস্ত বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘মানুষে-মানুষে লড়াই বাঁধিয়েই থামছে না ওঁরা, হনুমানকেও নামিয়েছে। হনুমানের জাত বিচার শুরু হয়েছে।   হিন্দু ও মুসলমানকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। এ রাজ্য এ সব চলবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘এ 

রাজ্য কালী মন্দির, দূর্গাপুজো, রমজান বড়দিন পালন করা হয়। তখন তো বিজেপির জন্মই হয়নি। ওরা অশান্তির চেষ্টা করছে।’’ আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কুম্ভমেলার পর সব চেয়ে বড় জাতীয় মেলা গঙ্গাসাগর মেলা। এখানে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মানুষ নদীপথে ওই মেলায় আসেন। আমরা সব রকম ব্যবস্থা করেছি। আমি তিনদিন এই জেলায় থাকব। গঙ্গাসারগর পরিদর্শন করব।’’  তিনি জানান, সুন্দরবনের মানুষকে আলিপুরে ছুটতে হবে না। দ্রুত সুন্দরবন জেলা তৈরি হবে। 

এ দিন  সম্প্রতি জয়নগরের জয়হিন্দ বাহিনীর আঞ্চলিক সভাপতি সারফুদ্দিন খান, মইদুল হক মোল্লা ও আমিন আলি মোল্লার স্ত্রীদের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ওই পরিবারগুলির পাশে রয়েছে। ওদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার বিষয়ে জেলাশাসক দেখাশোনা করবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’জনকে স্বাস্থ্য দফতর ও একজনকে স্বরাষ্ট্র দফতরে চাকরি দেওয়া হয়েছে।