রাত পোহালেই মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তার আগের দিন অর্থাৎ আজ, সোমবার স্কুলে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনেক কাজ রয়েছে। তবু রবিবার সরস্বতী পুজো হওয়ায় পরের দিন অর্থাৎ আজ স্কুল ছুটি থাকবে কি না, তা নিয়ে শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংশয় বেড়েছে রবিবার সরস্বতী পুজোর পরে সোমবার রাজ্য সরকারি কর্মীদের ছুটি ঘোষণা করায়। রবিবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যে-সব স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা আসন পড়েছে, সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাজির হতেই হবে। তাঁদের কোনও ছুটি নেই। কারণ পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত অনেক কাজ থাকে।’’

পর্ষদের তরফে এ কথা জানানো হলেও শিক্ষক শিবিরের একাংশের অনুযোগ, পর্ষদ এই নিয়ে আগে থেকে পরিষ্কার করে কিছু না-জানানোর ফলেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। 

মেদিনীপুরের একটি স্কুলের শিক্ষক তিলকচন্দ্র রায় জানান, সকাল থেকে অনেকেই ফোন করে জানতে চাইছেন, সোমবার স্কুল ছুটি কি না। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সব শিক্ষককে স্কুলে আসতে হবে কি না। একই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হীরক দাস। 

তিনি বলেন, ‘‘মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের দিন ছুটি কী করে থাকবে, সেই প্রশ্ন তো থাকছেই। তবু সরকারি কর্মীদের জন্য সোমবার ছুটি ঘোষিত হওয়ায় অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা মনে করছেন, তাঁরাও হয়তো এই ছুটির আওতায় পড়ছেন।’’ একই সমস্যার কথা জানালেন পাঁশকুড়ার একটি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাধনচন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘সোমবার রাজ্য সরকারের ছুটি থাকায় আমাদেরও ছুটি কি না, এই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে আমি আমার স্কুলের সব শিক্ষককে জানিয়ে দিয়েছি, মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য স্কুলে আসতে হবে। যদিও স্কুলে ওই দিন কোনও পঠনপাঠন হবে না।’’

মাধ্যমিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগের দিন শিক্ষকেরা ছুটি কী ভাবে চাইছেন, সেই প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষক মহলেরই একটি অংশ। তবে রাজ্যের কয়েকটি শিক্ষক সংগঠনের মতে, পর্ষদ যদি রবিবার, ছুটির দিনে সরস্বতী পুজোর কথা মাথায় রেখে মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি তৈরি করত, তা হলে এই সংশয়-বিভ্রাম্তি হত না। প্রতি বছরের মতো এ বারেও স্কুল-কর্তৃপক্ষ পুজোর পরের দিন ছুটি দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন এবং প্রীতিভোজে মনোনিবেশ করতে পারতেন।