• রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিজিৎ অধিকারী
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জনতা কার্ফুর দিন মন্ত্রীই বসালেন ‘জনতার দরবার’

MInister
জনতা কার্ফুর দিনেই নিজের বাড়িতে শ্যামল সাঁতরার ‘জনতার দরবার’। রবিবার। —নিজস্ব চিত্র

করোনা-সংক্রমণ আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যবাসীকে নিজেদের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব রাখতে বলছেন। ভিড় করতে নিষেধ করছেন। অথচ, জনতা কার্ফুর দিন, রবিবার রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা নিজের বাড়িতেই (বাঁকুড়ার জয়পুরের ডিহা গ্রামে) ‘জনতার দরবার’ বসালেন। সেখানে করোনা-সতর্কতার সাবধানতাও মানা হয়নি বলে অভিযোগ। শ্যামলবাবু অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘মানুষ বাড়িতে চলে এলে কি ফেরানো যায়?’’ যদিও এ নিয়ে শ্যামলবাবুর দল তৃণমূল-সহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। 

বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার পেশায় চিকিৎসক। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘শ্যামলবাবু কলেজ-শিক্ষক। রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যও বটে। তার পরেও এমন কাজ করলেন কী করে? মন্ত্রীই যদি সতর্ক না হন, সাধারণ মানুষকে অসচেতন বলে কী হবে?’’ বিষ্ণুপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য স্বপন ঘোষের প্রশ্ন, ‘‘মন্ত্রী এই সময় কী ভাবে জনতার দরবার বসালেন!” ‘অস্বস্তি’তে জেলা তৃণমূলও। বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের সহ-পর্যবেক্ষক কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরী বলেন, ‘‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি শ্যামলবাবুর সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁকে জানিয়েছি, করোনা-ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ুক, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।’’

এতে সাধারণের কাছে ভুল বার্তা যাবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে প্রশাসনের অন্দরেও। মন্ত্রীকে কি সতর্ক করবে প্রশাসন? বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ জগন্নাথ সরকারের বক্তব্য, ‘‘মন্ত্রীরাই নীতি নির্ধারণ করেন। শীর্ষে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও মন্ত্রী সতর্ক না থাকলে, কী করে তাঁকে সতর্ক করি?’’ তবে বাঁকুড়ার জেলাশাসক এস অরুণপ্রসাদের দাবি, ‘‘মন্ত্রী এ দিন তিন-চার জনকে হুইলচেয়ার বিলি করেছেন বলে শুনেছি। সেখানে কয়েক জন এসেছিলেন। তাঁদের পারস্পরিক দূরত্বও যথেষ্ট ছিল।’’

আরও পড়ুনসাবধানতার অভাবেই কলকাতায় করোনা আক্রান্ত আরও ৩

কোতুলপুর কেন্দ্রের বিধায়ক শ্যামলবাবু গত ছ’বছর ধরে প্রতি রবিবার নিজের বাড়িতে ‘জনতার দরবার’ বসাচ্ছেন। সেখানে এলাকাবাসী মন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন কাজে আসেন। এ দিন অন্তত ৬০-৬৫ জন এসেছিলেন বলে জানান খোদ মন্ত্রী। তিনি তাঁদের ঘরের ভিতরে ডেকে কথা বলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘মাস্ক’ ছিল না মন্ত্রী বা তাঁর সাক্ষাৎপ্রার্থীদের মুখে। মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের মধ্যে খুব বেশি দূরত্বও ছিল না। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘মাস্ক ও স্যানিটাইজ়ারের আকাল চলছে। 

মানুষ কী করে পাবে? আমার মাস্ক থাকলেও সাক্ষাৎপ্রার্থীদের না থাকায় আমি কী করে পরি?’’ তাঁর সংযোজন: ‘‘ঘরের বাইরে সাবান রাখা ছিল।’’ এ নিয়ে শোরগোল পড়ায় রাতে অবশ্য তিনি বলেন, ‘‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনতার দরবার স্থগিত রাখছি।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন