• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

করোনা রোগীর চিকিৎসার খরচ বেঁধে দিল রাজ্য

Corona
ছবি রয়টার্স।

এক দিনে আক্রান্তের হারের সূচক প্রায় সাড়ে পাঁচশো ছুঁয়ে ফেলার দিনই বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসার তিনটি খাতে খরচের সীমা বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষার খরচ ২২৫০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। তিনি জানান, করোনা রোগীর চিকিৎসকদের কনসালট্যান্ট ফি বাবদ এবং পিপিই-সহ প্রোটেক্টিভ গিয়ারের খরচ একদিনে হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। তাঁর কথায়, ‘‘এই তিনটির পরে আরও যে সকল খাতে খরচ বেঁধে দেওয়া হবে, তা দু-তিনদিনের মধ্যে জানানো হবে।’’

এ দিকে এক দিনে আক্রান্তের হারের সূচক এ দিন চারশোর ঘর ছাড়িয়ে কার্যত সাড়ে পাঁচশোর ঘরে পৌঁছেছে। এ দিনের বুলেটিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪২ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্তের নিরিখে এ দিনের পরিসংখ্যানই সর্বোচ্চ। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। শুক্রবার কলকাতা (১২৮) এবং উত্তর ২৪ পরগনার (৯৯) থেকেও এক দিনে আক্রান্তের নিরিখে হাওড়ার (১১০) পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য ভবনের কর্তাদের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে। এ দিনই প্রথম এক দিনে আক্রান্তের নিরিখে সেঞ্চুরি করল হাওড়া। বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪২। 

আরও পড়ুন: পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা বন্ধ হতেই কমছে সংক্রমণ

সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষদের একাংশের বক্তব্য, যে সকল রোগীর করোনার পাশাপাশি অন্য অসুখ রয়েছে, তাঁদের জন্যও প্রতিদিন চিকিৎসকদের ‘কনসালট্যান্ট ফি’ বাবদ এক হাজার টাকাই বরাদ্দ কি না, তা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়নি। কো-মর্বিডিটির রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশ মানা কষ্টকর হবে বলে মত তাঁদের। এক বেসরকারি হাসপাতালের পদস্থ কর্তা জানান, মে-তে অর্থ দফতরের মেডিক্যাল সেল সারা দিনে ন্যূনতম চারটি এবং সর্বোচ্চ ছ’টি পিপিই ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। সেখানে তিন ধরনের দামের (৩৮৬ টাকা, ৪৪২ টাকা, ৪৭৯ টাকা) পিপিই ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে রাজ্যের এ দিনের ঘোষণার সঙ্গে মে-র নির্দেশিকার সামঞ্জস্য নেই। আরও একটি হাসপাতাল গ্রুপের কর্তা জানান, করোনা রোগের চিকিৎসায় যুক্ত থাকা চিকিৎসকদের উৎসাহ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে কোনও ভাবে সংক্রমিত না হন, সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা নিতে গিয়ে আনুষাঙ্গিক খরচ বেড়েছে।

বঙ্গে আক্রান্ত ১৬,১৯০

অ্যাক্টিভ রোগী ৫০৩৯

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৫৪২

২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০

মোট মৃত ৬১৬

কো-মর্বিডিটির কারণে মৃত ৪৫৮

(সূত্র: রাজ্য সরকার)

বেসরকারি হাসপাতালের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া ফি (টাকায়)

নমুনা পরীক্ষা ২২৫০

বর্মবস্ত্র-সহ রোগীর অন্য সুরক্ষা (দৈনিক) ১০০০

চিকিৎসকের ফি ১০০০

পিয়ারলেসের সিইও সুদীপ্ত মিত্র বলেন, ‘‘পিপিই-র ব্যবহারের সঙ্গে আপোস করলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের মধ্যেও সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।’’ মেডিকার কর্ণধার অলোক রায় অবশ্য সর্বতো ভাবে সরকারি সিদ্ধান্তের পাশে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: আমপানের ক্ষতিপূরণ তালিকায় ৮০% ভুয়ো নাম, চিঠি দিলেন পাঁচলার প্রধান

অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া-র প্রেসিডেন্ট রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘‘কঠিন সময়ে রাজ্যের নির্দেশিকা আমরা মানব। কিন্তু আবেদন করব, চিকিৎসকদের কনসালট্যান্ট ফি ও পিপিই-র খরচের সীমা যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন