লোকসভা ভোটের পরে রাজ্যে প্রথম বার বিধানসভার অধিবেশন বসছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে তিন মাসের জন্য ব্যয়-বরাদ্দ পাশ করিয়েছিল রাজ্য সরকার। বাকি বছরের জন্য বাজেট মঞ্জুর করা এবং দফাওয়াড়ি বাজেট আলোচনাই আসন্ন অধিবেশনের উদ্দেশ্য। লোকসভা ভোটে রাজ্যে ১৮ আসন পেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠা বিজেপি যাতে বিধানসভার মধ্যে মূল বিরোধী পরিসর দখল করে নিতে পারে, তার জন্য তৎপরতা শুরু হল কংগ্রেস ও বাম শিবিরে।

বিধানসভা সূত্রের খবর, দফাওয়াড়ি বাজেট অধিবেশন শুরু হতে পারে আগামী ২১ জুন। রাজ্যপালের সম্মতি পেলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। লোকসভার সঙ্গে বিধানসভা উপনির্বাচনে চারটি আসন জিতেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ আবার সাংসদ হয়ে বিধায়ক-পদে ইস্তফা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বিজেপির এখন ৬ জন বিধায়ক। বিধানসভা বসলে সরকার-বিরোধিতার রাশ যাতে অধুনা উজ্জীবিত বিজেপির হাতেই পুরোপুরি চলে না যায়, তার জন্য আলোচনা শুরু করেছেন কংগ্রেস ও বাম পরিষদীয় নেতৃত্ব। তার পাশাপাশিই রাজ্যের নানা এলাকায় সংঘর্ষে আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাম ও কংগ্রেস বিধায়কদের যৌথ দল পাঠানোর ভাবনাচিন্তা হচ্ছে।

কয়েক বছর ধরে বিধানসভায় সমন্বয় করেই চলে বাম ও কংগ্রেস শিবির। কিন্তু এ বার লোকসভা ভোটে দু’দলের সমঝোতা হয়নি। তার জেরে দু’পক্ষের মধ্যে কিছু দোষারোপের পালাও চলেছে। কিন্তু বিজেপির উত্থান মোকাবিলায় একত্রে চলা ছাড়া পথ নেই বলে মনে করছেন সিপিএম ও কংগ্রেস দু’দলের নেতৃত্বই। রাজনৈতিক স্তরে দু’দলের অন্দরেই সমঝোতা ফের গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। এই আবহেই দু’দলের পরিষদীয় নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। বিজেপিকে কোনও সুযোগ না দিয়ে রাজ্য সরকারকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে আসন্ন অধিবেশনে বয়কটের পথে যথাসম্ভব না গিয়ে পুরো সময়টা কাজে লাগাতে চান তাঁরা।

বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং দু’পক্ষের আরও কিছু বিধায়ক আপাতত যৌথ কৌশল রচনায় মন দিয়েছেন। কংগ্রেসের এক বর্ষীয়ান বিধায়কের কথায়, ‘‘অধিবেশনের সময় ছোট করে সরকার যাতে পালিয়ে না যায়, সেই দাবিই আমরা প্রথম তুলব। কী কী বিষয়ে মুলতবি আনা যায়, দু’পক্ষে কথা বলেই ঠিক করা হবে।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।