জরুরি অবস্থার সময়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একজোট হয়েছিল বিরোধীরা। সেই অভিজ্ঞতা মনে রেখে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের জমানায় গণ-মঞ্চ গড়ে তোলার ডাক দিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তাঁর মতে, দেশ এবং দেশের মানুষ যখন বিপন্ন, গণ-মঞ্চ গড়ে তুলে সম্মিলিত প্রতিরোধই তখন পথ।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে ওঠার শতবর্ষ পূর্তির সূচনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার ইয়েচুরি বলেন, মোদী-শাহের রাজত্বে সঙ্কট এখন চার রকম। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমত, আর্থিক দুর্দশা চরমে। মানুষের রুটি-রুজির দিশা নেই, অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। দ্বিতীয়ত, মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে যে কোনও অছিলায়। তৃতীয়ত, দেশের সংবিধান এবং সাংবিধানিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানকে চুরমার করে দেওয়া হচ্ছে। আর চতুর্থত, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ যে সব শক্তি ও ব্যক্তি একমত হবেন, তাঁদের নিয়ে মঞ্চ গড়ে তুলতে চাই আমরা। গণ-মঞ্চই এখন প্রতিরোধের পথ।’’

ভিড়ে ঠাসা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইয়েচুরি নির্দিষ্ট করে কোনও রাজনৈতিক দলেরই নাম করেননি। পরে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি কংগ্রেসকেও বোঝাতে চেয়েছেন? সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক ফের ব্যাখ্যা করেন, তাঁরা কোনও বিশেষ দলের কথা বলছেন না। চতুর্মুখী সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে প্রতিবাদী সব শক্তি ও মানুষকে তাঁরা একজোট করতে চান।

কমরেড: ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানে সীতারাম ইয়েচুরি এবং বিমান বসু।  বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। ছবি: সুমন বল্লভ

শতবর্ষ পূর্তির ওই অনুষ্ঠানেই সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম অবশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, এ রাজ্যে তৃণমূলকে পাশে নিয়ে বিজেপির মোকাবিলার কথা তাঁরা ভাবছে না। সেলিম বলেন, ‘‘অমিত শাহেরা বলছেন, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র আগে তাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) আনবেন। নাগরিকত্ব আইন যখন ২০০৩ সালে সংশোধন হয়, এখনকার মুখ্যমন্ত্রী তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেই আইনকে কাঠামো করেই এখন বিজেপি এগোতে চাইছে।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘দিল্লিতে গিয়ে শাহের সঙ্গে বৈঠক করব, তাঁর রাস্তা থেকে বিক্ষোভের কাঁটা তুলে দেব আবার বিজেপির বিরুদ্ধে এখানে হুঙ্কারও দেব— এই খেলা আমাদের ধরিয়ে দিতে হবে! মানুষ যা বোঝার, বুঝে নেবেন।’’ অনুষ্ঠানে বক্তা ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ও পলিটব্যুরো সদস্য বিমান বসুও।