শহরে অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্মরণসভায় শেষ পর্যন্ত থাকছে না অ-বিজেপি তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলই। রাজ্য বিজেপির উদ্যোগে ওই স্মরণসভায় না যাওয়ার কথা আগেই বলেছিল শাসক তৃণমূল। বিরোধী সিপিএম এবং কংগ্রেসও মঙ্গলবার জানিয়ে দিল, তারা বিজেপির আয়োজিত ওই সভায় যাচ্ছে না। সরকারি প্রেক্ষাগৃহ মহাজাতি সদনে আজ, বুধবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্মরণ অনুষ্ঠান তাই কার্যত বিজেপিরই দলীয় সভায় পরিণত হতে চলেছে। যদিও সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের তরফে সৌজন্য রক্ষা করে বাজপেয়ীর ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হতে পারে। কারণ, বাজপেয়ী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং আমন্ত্রণ গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে এ দিন আলোচনা করে সিপিএম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দিল্লির স্মরণসভায় যাওয়ার পরে আবার কলকাতায় একই অনুষ্ঠানে যাওয়া অর্থহীন। বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, তপন শিকদারের মতো বাংলার বিজেপি নেতাদের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল, বাজপেয়ীর বেলায় তা প্রয়োজ্য নয় বলেই তাদের যুক্তি। দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকের আগে এ দিন কলকাতায় ছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও। তিনি পরে বলেন, ‘‘বাজপেয়ীর জন্য আমরা বিজেপি দফতরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। শেষকৃত্যে আমাদের সংসদীয় দলের প্রতিনিধি ছিলেন, দিল্লির স্মরণসভাতেও আমরা গিয়েছি। এর পরে আর অন্য শহরে একাধিক স্মরণসভায় যাওয়ার কি তাৎপর্য আছে?’’

বস্তুত, একই যুক্তি দেখিয়েছিল তৃণমূল। স্মরণসভার জন্য মহাজাতি সদন অবশ্য বিজেপিকে বিনা ভাড়ায় ব্যবস্থা করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। সিপিএমের সুরেই এ দিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছেন, ‘‘ভিন্ন রাজনীতির মানুষ হলেও বাজপেয়ীকে আমরা শ্রদ্ধা করি। দিল্লিতে তাঁর স্মরণসভায় আমাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব গিয়েছেন। তার পরে আর অন্য স্মরণসভায় আমরা গিয়ে কী করব?’’ অধীরবাবু এ দিনই সন্ধ্যায় আর এক সদ্যপ্রয়াত নেতা, লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। সোমনাথবাবুর মেয়ে, জামাই, পুত্রবধূ ও নাতি আগের দিনই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। পারিবারিক স্মরণসভা হবে রবীন্দ্র সদনে ১ সেপ্টেম্বর।

স্মরণসভা ঘিরে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসের এক সুর দেখে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ এ দিন কটাক্ষ করেছেন, ‘‘ওঁরা যেন মনে রাখেন অটলবিহারী কলকাতায় এসেই তৃণমূল নেত্রীর মাকে প্রণাম করেছিলেন এবং পায়েস খেয়েছিলেন। ওঁকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না, গায়ে কাদা ছেটাবেন না। আর তৃণমূলের পাশাপাশি সিপিএম, কংগ্রেসেরও কেউ না এলে বুঝতে হবে ওদের জোট হচ্ছে!’’