ভোটগণনা হয়ে গিয়েছিল আগেই। তবে আদালতের নির্দেশে ফল ঘোষণা আটকে ছিল। মঙ্গলবার সেই ফল ঘোষণার পরে স্বস্তিতে ঐশী ঘোষের বাবা-মা। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (‌জেএনইউ) ছাত্র সংসদ ভোটে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন দুর্গাপুরের ঐশী। তাঁর সাফল্যে শহরের বাম নেতৃত্ব খুশি। অভিনন্দন জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারাও।

৬ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ হয়। তার পরেই গণনায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সভাপতি পদে জিততে চলেছেন এসএফআইয়ের ঐশী। মঙ্গলবার শেষমেশ ফল ঘোষণার পরে তাঁর মা শর্মিষ্ঠাদেবী বলেন, ‘‘মেয়ে উচ্ছ্বসিত। নতুন দায়িত্ব ওর কাছে বেশ ‘চ্যালেঞ্জিং’। যেটুকু কথা হয়েছে, বারবার ঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করার কথা বলেছে। আমরা আশাবাদী, ও পারবে।’’ তিনি জানান, সংগঠনের কাজে ২২ সেপ্টেম্বর কেরলে যাবেন ঐশী। ফিরবেন পর দিন। দুর্গাপুরে তাঁর আসার কথা ২ অক্টোবর। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায়সরকার বলেন, ‘‘সর্বগ্রাসী আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে ঐশী ও তাঁর সঙ্গীরা জয়ী হয়েছেন। দুর্গাপুর স্টেশনে পৌঁছলে তাঁকে গণ সংবর্ধনা দেওয়া হবে।’’

ঐশীর বাবা দেবাশিসবাবু এখন ডিভিসি-র রঘুনাথপুরের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত। আগে দুর্গাপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশনের (ডিটিপিএস) কর্মী ছিলেন। ডিটিপিএস কলোনির আবাসনেই বরাবর থাকেন তাঁরা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেবাশিসবাবু সিটুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দিল্লির দৌলতরাম কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সময়ে এসএফআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হন ঐশী। ২০১৬ সালে জেএনইউ-তে ভর্তি হন। দেবাশিসবাবু বলেন, ‘‘পড়াশোনার সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাক ঐশী, এটাই চাই।’’ ঐশী বলেন, ‘‘নানা রকম বাধা ও হুমকি সত্ত্বেও ছাত্রছাত্রীরা পাশে থেকেছেন। যে দায়িত্ব আমাদের তাঁরা দিয়েছেন, তা পূরণ করতে লড়ে যাব।’’

ডিটিপিএসের সিটু প্রভাবিত ‘ডিভিসি শ্রমিক ইউনিয়নে’র তরফে সম্প্রতি সংবর্ধনা দেওয়া হয় দেবাশিসবাবু ও শর্মিষ্ঠাদেবীকে। সংগঠনের সম্পাদক অভিজিৎ রায়ের বক্তব্য, ‘‘ডিটিপিএস বাঁচানোর আন্দোলনেও ঐশীকে আমরা পাশে চাই।’’ এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক মৈনাক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যে ভাবে জেএনইউ-তে ঐশী-সহ বাম ছাত্র প্রতিনিধিরা জয়ী হয়েছেন, তা অভিনন্দনযোগ্য।’’ 

ঐশীর সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারিও। তিনি বলেন, ‘‘জেএনইউ-তে ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য দুর্গাপুরের ঐশীকে অভিনন্দন জানাই। তাঁর এই সাফল্যে জেলার মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত।’’