রোগীর মৃত্যুতে ধুন্ধুমার কাণ্ডের পরে তিন দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এ-পর্যন্ত পাকড়াও করা হয়েছে পাঁচ জনকে। কিন্তু পুলিশ মূল অভিযুক্তদের নাগাল পেয়েছে কি? তাদের কাউকে আদৌ গ্রেফতার করতে পেরেছে কি?

নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে রোগীর পরিবারের গোলমালের ঘটনায় এখন এটাই অন্যতম বড় প্রশ্ন আন্দোলনকারীদের। 

এনআরএসে সোমবার রাতের গোলমালে কারা জুনিয়র ডাক্তারদের লক্ষ্য করে ইটপাথর ছুড়েছিল?

কোথা থেকেই বা এল এত পাথর আর ইটের টুকরো?

কাদের উস্কানিতে দু’পক্ষ গোলমালে জড়িয়ে পড়ে?

বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই সব প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি। যদিও লালবাজার জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এবং ধৃত পাঁচ জনকে জেরা করে বাকিদের নাম জানার চেষ্টা চলছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে-পাঁচ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, গোলমালের ঘটনায় তারাই কি মূল অভিযুক্ত? 

বৃহস্পতিবার ধৃত পাঁচ জনের সম্পর্কে খোঁজখবর করতে গিয়ে এমন কিছু তথ্য উঠে এল, যা থেকে স্পষ্ট, পুলিশ এখনও মূল অভিযুক্তদের ধরতেই পারেনি। যাদের গ্রেফতার করেছে, তারা চাঁইদের সহযোগী হিসেবে সে-রাতের গোলমালে জড়িত ছিল ঠিকই। তবে আসল অভিযুক্তেরা এখনও অধরা। তবে সে-রাতে ট্যাংরার বিবিবাগানের ১৫ এবং ১৬ নম্বর লেন থেকে যে লরি ভর্তি করে নীলরতনে লোকজন আনা হয়েছিল, তা কবুল করেছেন ধৃত যুবক মহম্মদ ইয়াকুবের ভাই মহম্মদ শামিম এবং ১৫/এইচ/১০ বিবিবাগান লেনের বাসিন্দারা। 

ওই এলাকার বাসিন্দারা এ দিন জানান, লরি বোঝাই করে লোকজন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এনআরএসে। তবে ধৃতদের অন্যতম আদিল হারুন একটি অনলাইন খাবার সরবরাহকারী সংস্থার হয়ে খাবার দিতে গিয়েছিলেন সোমবার রাতে। দু’পক্ষের গোলমালের মধ্যে পড়ে নিজের মোটরবাইক ফেলে পালিয়ে যান তিনি। পরে সেই মোটরবাইক আনতে গেলে এন্টালি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে বলে অভিযোগ আদিলের আত্মীয়স্বজনের।

এ দিন দুপুরে এন্টালি থানায় আদিলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাঁর হবু স্ত্রী, শাশুড়ি এবং কাকিমা। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তনভির হোসেন। পরে থানা থেকে বেরিয়ে আদিলের হবু স্ত্রী জানান, আদিল চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় আদৌ জড়িত নন। তিনি সে-রাতে খাবার পৌঁছে দিতে এনআরএসে 

যান। রোগীর পরিবার এবং চিকিৎসকদের গোলমালের মধ্যে পড়ে মোটরবাইক ফেলে পালিয়ে যান। পরের দিন মোটরবাইকের নম্বর দেখে এন্টালি থানার পুলিশ পাড়ায় আসে এবং থানায় যেতে বলে। অভিযোগ, পাড়ার অন্য এক যুবক শেখ শাহনওয়াজকে নিয়ে মোটরবাইক আনতে গেলে আদিল ও শাহনওয়াজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সেই সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই সব কিছু বুঝতে পারবে বলে জানান আদিলের হবু স্ত্রী।

এই অবস্থায় এনআরএস-কাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ আদৌ মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পেরেছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও। পুলিশ অবশ্য প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে, ধৃত পাঁচ জনের মধ্যে দু’জনকে এনআরএসের জুনিয়রেরাই ছবি দেখে শনাক্ত করে দেন। অন্য দু’জনের ছবি দেখালেও তারা এখনও পলাতক বলে জানায় পুলিশ। লালবাজারের কর্তারা তদন্ত নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।