মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত নথি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরে পাঠিয়ে দিল ‘দ্য ওয়েস্টবেঙ্গল কোঅপারেটিভ মিল্ক প্রোডিউসার্স ফেডারেশন’ (বেনমিল্ক)। দুগ্ধ সমবায়ের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক পরশ দত্ত ছাড়পত্র দেওয়ার পরে দিন দুয়েক আগেই যাবতীয় নথি প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই দফতরের হেফাজতেই রয়েছে শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত মূল ফাইলটি। এই সব নথি ইডি-কে পাঠানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্য নবান্নই নেবে। দফতরের এক কর্তা বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘দুগ্ধ সমবায় থেকে আসা ফাইলটি ইডির কাছে পাঠানো হবে কিনা, সে ব্যাপারে নবান্নের মতামত নেব। সেই সঙ্গে দফতরের কাছে থাকা মূল ফাইলটি নিয়ে কী করা হবে, তা-ও জানতে চাইব।’’ 

সরকারি শেয়ার হস্তান্তরের আগে মেট্রো ডেয়ারির চেয়ারম্যান ছিলেন পরশবাবুই। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে যা যা ছিল, সবই ইডি-কে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছি। আমাদের লুকনোর কিছু নেই। স্বচ্ছতার সঙ্গে পদ্ধতি মেনে শেয়ার বিক্রি হয়েছে।’’ 

কী ভাবে বিক্রি হয়েছিল মেট্রো ডেয়ারি? পরশবাবু জানান, মেট্রোতে কেভেন্টার্সের শেয়ার ছিল ৫৩ শতাংশ। দুগ্ধ সমবায়ের হাতে ছিল ৪৭ শতাংশ। বছর আড়াই আগে কেভেন্টার্স মেট্রো ডেয়ারির সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণে ২০০ কোটি টাকা লগ্নির প্রস্তাব দেয়। সমবায়েরও ১০০ কোটি ঢালার কথা ছিল। কিন্তু সমবায়ের হাতে সেই টাকা না-থাকায় নবান্নের কাছে চাওয়া হয়। পরশবাবুর কথায়, ‘‘সরকার জানায়, ওই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। সমবায় বরং মেট্রোর শেয়ার বিক্রি করে দিক। শেয়ার বিক্রি নিয়ে গোড়ায় কিছুটা সংশয় ছিল। কিন্তু সরকারের শীর্ষস্তর থেকে সবুজ-সঙ্কেত দেওয়ার পরে প্রক্রিয়া শুরু করি।’’ 

পরশবাবু জানান, অর্থ দফতর ৪৭ শতাংশ শেয়ারের মূল্য ঠিক করার জন্য দরপত্র ডেকে ভ্যালুয়ার নিয়োগ করে। সেই সংস্থা খতিয়ান (বুক ভ্যালু) অনুযায়ী ৭০ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছিল। তখন বিখ্যাত একটি অডিট সংস্থাকে ফের বাজারমূল্য নির্ধারণ করতে বলা হয়। সর্বশেষ দাম ঠিক হয় ৮৪.৪৩ কোটি। পর পর দু’বার দরপত্র চেয়ে কেভেন্টার্সকেই একমাত্র ক্রেতা হিসেবে পাওয়া যায়। পরশবাবুর মন্তব্য, ‘‘যা যা বললাম সবই কাগজে-কলমে সমবায়ের কাছে রাখা আছে।’’ 

সরকারি শেয়ার হস্তান্তরের পরে মেট্রো ডেয়ারির ১৫ শতাংশ শেয়ার ১৭০ কোটি টাকায় সিঙ্গাপুরের একটি প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ডের কাছে বেচে দেয় কেভেন্টার্স। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। অভিযোগ ওঠে, কেভেন্টার্স যে দরে শেয়ার বেচেছে, তা রাজ্য পেলে কোষাগারে ৫০০ কোটি টাকা আসত। তদন্তে নেমে দুগ্ধ সমবায়ের কাছে মেট্রো ডেয়ারি যৌথ উদ্যোগের চুক্তি, বোর্ডের বিস্তারিত তথ্য, শেয়ার বিক্রির পদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট অফিসারদের তালিকা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ফাইলটি চেয়ে পাঠায় ইডি। যে হেতু সিঙ্গাপুরের সংস্থা লগ্নি করেছে, তাই ‘ফেমা’ আইনে টাকা ঘোরানোর অভিযোগের তদন্ত করতে চায় তারা। 

এ প্রসঙ্গে পরশবাবু বলেন, ‘‘ফেমার প্রশ্ন আসছে যখন কেভেন্টার্স সিঙ্গাপুরের সংস্থাকে শেয়ার বিক্রি করেছে। তত দিনে দুগ্ধ সমবায়ের সঙ্গে মেট্রোর সম্পর্ক চুকে গিয়েছে। আমিও শেয়ার বিক্রির পরেই মেট্রোর চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দিয়েছিলাম।’’

শেয়ার বিক্রির টাকা কি সরকারকে জমা দিয়েছেন? পরশবাবু জানান, আলাদা একটি অ্যাকাউন্টে সেই টাকা এখনও রাখা আছে। সরকার সমবায় ক্যাপিটাল গেন ট্যাক্স বাদ দিয়ে বাকি টাকা সরকারকে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও নবান্ন এখনও কিছু জানায়নি। 

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।