দুর্গাপুজো উদ্বোধনের প্রথম দিনেই বিরোধীদের উদ্দেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও দলের নাম তিনি করেন নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর এই সব খোঁচা বিজেপি ও সিপিএম উভয়কে লক্ষ্য করেই।

সোমবার মহালয়ার বিকেলে বাগবাজার সর্বজনীন থেকে পুজো উদ্বোধন শুরু করেন তিনি। এই পুজোর এ বার শতবর্ষ। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ধর্ম অনেক। কারও ঈশ্বর, কারও আল্লা, কারও গড— এমন আরও কত কী। কিন্তু উৎসব সকলের। সেই উৎসবকে কেউ কলুষিত করতে চাইলে ছাড়া হবে না। যাতে কেউ তা করতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।’’

পরে চেতলায় ফিরহাদ হাকিমের পুজোয় মমতা আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, ‘‘এখন দেখছি কিছু লোক দুর্গাপুজোয় দোষ ধরেন, কালীপুজোয় দোষ ধরেন। ইদে দোষ ধরেন। ছটপুজোতেও দোষ ধরেন। এঁরা কোনও না কোনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমরাও ৩৪ বছর বিরোধী পক্ষে ছিলাম। কিন্তু উৎসব নিয়ে রাজনীতি করিনি। তাই তাঁদের বলছি, আগুন নিয়ে খেলবেন না।’’ ক্লাবগুলিকে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো-অনুদান নিয়ে বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশে অনুদান বন্ধ। আজ, মঙ্গলবার ফের সেই মামলার শুনানি। মমতার এ দিনের মন্তব্যের সঙ্গে ওই বিষয়টির যোগ আছে বলে পর্যবেক্ষকদের অনুমান।

আরও পড়ুন: ‘ভুঁইফোড় গুন্ডাসর্দারদের’ হাতে দেশ চলবে, প্রশ্ন মমতার

গত কয়েক বছরের মতো এ বারও মহালয়া থেকে মুখ্যমন্ত্রী পুজো উদ্বোধন শুরু করে দেওয়ায় শহরে দুর্গোৎসব কার্যত শুরু হয়ে গেল। নাকতলায় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পুজো উদ্বোধন করে মমতা নিজেও বলেন, ‘‘আগে দুর্গাপুজো ষষ্ঠী থেকে শুরু হত। এখন মহালয়া থেকে শুরু হয়। এর জন্য আমিই দায়ী। আমি মহালয়া থেকেই পুজোর উদ্বোধন শুরু করে দিই।’’ যোধপুর পার্কের একটি পুজোয় মুখ্যমন্ত্রীর আরও ব্যাখ্যা, ‘‘অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় এ সময়ে। ছোট, বড় সব রকম। দেশি, বিদেশি পর্যটকেরাও আসেন। ফলে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একটা শিল্পসম্ভাবনার দিক রয়েছে। সেটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’’