বছর তিনেক আগে বিজেপি-পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ‘ন্যাশনালিস্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন।’ গত রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর সেই সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে অনেককেই চমকে দিয়েছেন রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে নজরদারির জন্য গঠিত টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ত্রিদিববাবু বেসরকারি চিকিৎসক হলেও তৃণমূল জমানায় স্বাস্থ্যভবনে প্রবল প্রভাব ও ক্ষমতার অধিকারী হন। সরকারি পুরস্কারও পেয়েছেন। কিন্তু গত দেড়-দু’বছর তাঁর প্রভাব কমেছে। টাস্ক ফোর্সের কাজকর্মেও ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ। তা হলে কি শাসক দলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে বলেই ত্রিদিববাবু বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের দিকে ঝুঁকছেন?

ত্রিদিববাবু তা উড়িয়ে দাবি করেন, ‘‘আমার কিছু চিকিৎসক বন্ধু আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভেবেছিলাম, চিকিৎসা নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা হবে। কিন্তু ধারণা ভুল ছিল। তাই মিনিট দশেক থেকে চলে এসেছি।’’ সভার আমন্ত্রণপত্রে অবশ্য অতিথিদের তালিকায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম ছিল। লেখা ছিল, কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রী এবং বিধায়ক আসবেন। তা দেখেও কি সভার চরিত্র ত্রিদিববাবু বুঝতে পারেননি? তাঁর উত্তর, ‘‘মুখে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। জানলে যেতাম না।’’

যদিও সংগঠনের চিকিৎসক-নেতারা অন্য কথা বলছেন। সভাপতি চিকিৎসক রামদয়াল দুবের কথায়, ‘‘সরকারি চিকিৎসকেরা অনেকে আমাদের সংগঠনে আসতে চান, কিন্তু ভয়ে আসতে পারেন না। ত্রিদিববাবু আসবেন ভাবিনি।’’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক সোমনাথ সরকার আবার বলন, ‘‘ত্রিদিববাবু তো অনেক দিন থেকেই আমাদের পাশে।’’

রামদয়াল দুবে বলেন, ‘‘রাজ্যপাল থাকবেন বলে আমরা সভায় বিজেপির কোনও প্রতীক বা পতাকা ব্যবহার করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের সংগঠন পুরোপুরি বিজেপি-পন্থী। এ দিনের সভাতেও বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়, সুভাষ সরকার, স্বপন দাশগুপ্তরা ছিলেন।’’ এ দিন উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল আরজি করের কার্ডিওভাস্কুলার বিভাগের প্রাক্তন প্রধান তথা স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ভবতোষ বিশ্বাসের। তিনি মঞ্চে উঠে বসেছিলেন। যদিও তাঁর দাবি, ‘‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা হবে ভেবে এসেছিলাম।’’

যদিও রামদয়ালবাবুর কথায়, ‘‘তৃণমূল ওকে ভিসি করেছিল, তা-ও উনি আমাদের সঙ্গে এসেছেন। মাসখানেক আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ১০ জন চিকিৎসক এক সঙ্গে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। প্রাক্তন স্বাস্থ্যশিক্ষা আধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।’’ রাজ্যের স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনও মন্তব্য করব না।’’