কিছু জেলের জায়গা বদলানো দরকার। কিছু নতুন জেল গড়তেও হবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই ‘মানানসই’ জমি অপ্রতুল। তাই কয়েকটি জেলের স্থান বদল থমকে গিয়েছে, আটকে গিয়েছে নতুন জেল তৈরির কাজও।

আলিপুর জেল উঠে গিয়েছে বারুইপুরে। কয়েক মাসের মধ্যে বারুইপুরে চলে যাবে প্রেসিডেন্সি জেলও। তার প্রথম পর্যায়ের কাজ দ্রুত গতিতে চলেছে। কিন্তু জমির অভাবে হাওড়া জেলা জেলের স্থান বদলের কাজ থমকে গিয়েছে। শুরুতে ঠিক হয়েছিল, হাওড়ায় কলকাতা পুলিশের হাতে থাকা একটি জমিতে নতুন ভাবে গড়ে উঠবে হাওড়া জেল। এখন যেখানে ওই জেল রয়েছে, সেই জমিতে তৈরি হবে একটি হাসপাতাল। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশ তাদের জমিটি ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। তাই জেল বদলের প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে। তবে জেল বদল নিয়ে কারা দফতরের সিদ্ধান্ত প্রায় পাকা। কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা জমির পাশে জায়গা দেখছে কারা দফতর। সব ঠিক থাকলে হাওড়ার নয়া জেলা জেল হতে পারে সেখানে।

দমদম সেন্ট্রাল জেলে এমনিতেই ভিড়। তার উপরে আলিপুর জেল উঠে যাওয়ায় সেখানে ভিড় বেড়েছে। ভিড় কমাতে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে একটি জেলা জেল গড়ার পরিকল্পনা করছে কারা দফতর। কিন্তু এখনও তেমন ‘ভাল’ জমি মেলেনি। বারাসত থানার অদূরের একটি জমি নিয়ে জট রয়েছে। সেই জট খুলতে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। তবে জেলা জেল না-করে ওপেন বা মুক্ত জেল গড়তে পারে কারা দফতর। মুক্ত জেলের বন্দিরা নিজেরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাইরে গিয়ে কর্মসংস্থান করতে পারেন। ওই জমিটি শহরের মধ্যে, তাই তাতে বন্দিরা সুফল পাবেন বলে কারা দফতরের একাংশের অভিমত। এক কর্তার কথায়, ‘‘জমিটির জটিলতা না-কাটলে কিছু বলা সম্ভব নয়।’’

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে মহকুমা জেলটি রয়েছে শহরের মধ্যে। সেটিকে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে কারা দফতর। কিন্তু তাতেও বাদ সাধছে ‘ঠিকঠাক’ জমির সন্ধান। সে-ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের তরফে একটি জমি পাওয়া গিয়েছিল বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়ায়। কিন্তু সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হবে না বলেই প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের অভিমত। তাই বসিরহাট মহকুমা জেলের ঠিকানা বদলের বিষয়টিও থমকে গিয়েছে। মালদহের চাঁচল এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নিমতৌড়িতে জেল তৈরির কাজ চলছে। জেল গড়ার পরিকল্পনা আছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ এবং বাঁকুড়ার খাতড়াতেও। 

কারাকর্তাদের মতে, জেলের সংখ্যা বাড়লে কয়েকটি জেলের উপরে যে-চাপ রয়েছে, তা কমবে। বিভিন্ন জেলে জায়গার তুলনায় বন্দির সংখ্যা বেশি বলে অনেক সময় অভিযোগ করে মানবাধিকার সংগঠনগুলিও।