রাজনৈতিক সংঘর্ষের জেরে বসিরহাট, সন্দেশখালিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলের যে-সব ছাত্রছাত্রী কলেজে ভর্তি হতে চান, তাঁরা এতে বিপাকে পড়েছেন বলে জানাচ্ছেন বিভিন্ন কলেজ-কর্তৃপক্ষ। 

ওই এলাকার স্কুলগুলিরও একই অবস্থা। গরমের ছুটির পরে সোমবার কাগজে-কলমে স্কুল খুলেছে। কিন্তু সন্দেশখালির নলকোড়ার বেশির ভাগ স্কুলই তালাবন্ধ। তার মধ্যে রয়েছে নলকোড়া জুনিয়র বেসিক স্কুলও। এই স্কুলের মাঠ থেকেই শনিবার গোলমালের সূত্রপাত। আশপাশের এলাকায় স্কুল খুলেছে। কিন্তু দূরে থাকা শিক্ষকদের অধিকাংশই আসতে পারেননি। পড়ুয়ারাও কার্যত স্কুলমুখো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকের পরীক্ষা চলছে। তাতে অবশ্য কোনও সমস্যা হয়নি। 

বেশ কিছু কলেজ আবেদনপত্র গ্রহণের পরে মেধা-তালিকাও প্রকাশ করেছে। ভর্তির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অন্যান্য কলেজও কয়েক দিনের মধ্যে মেধা-তালিকা প্রকাশ করবে। অধ্যক্ষেরা জানান, বসিরহাট, সন্দেশখালিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় ওই অঞ্চলে মেধা-তালিকা দেখা বা অনলাইনে ভর্তির পদ্ধতি বিপর্যস্ত। এ বছর ফর্ম পূরণ থেকে ফি জমা দিয়ে ভর্তি পর্যন্ত সব কিছুই অনলাইনে করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। পড়ুয়ারা প্রথম কলেজে আসবেন ক্লাস শুরুর দিন। তার আগে নয়। কিন্তু সন্দেশখালি, বসিরহাটে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় পড়ুয়ারা আতান্তরে।

বঙ্গবাসী কলেজের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক পার্থ ঘোষ জানান, তাঁদের হেল্পলাইনে রবিবার থেকে ওই সব এলাকার প্রচুর আবেদনকারী ফোন করেছেন। পার্থবাবু বলেন, ‘‘ওঁরা বলছেন, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় মেধা-তালিকা দেখতে পাচ্ছেন না। আমাদের কলেজে ভর্তি শুরু হচ্ছে ১২ জুন। ওঁরা কী ভাবে মেধা-তালিকা দেখবেন, কী ভাবেই বা ভর্তি হবেন?’’ তিনি জানান, ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে যেখানে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে, ছাত্রছাত্রীদের সেখানে গিয়ে ইন্টারনেট খুলে মেধা-তালিকা দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। একই কথা বলছেন লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের অধ্যক্ষ শিউলি সরকার।

রাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস জানান, ওই সব এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় তাঁদের কলেজের ভর্তির হেল্পলাইনেও প্রচুর ফোন আসছে। ‘‘আমাদের কলেজে মেধা-তালিকা এ দিনই বেরোচ্ছে। অনেকে ফোন করে অনুরোধ করছেন, ভর্তির সময়সীমা বাড়ানো হোক। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটাই শেষ হতে একটু দেরি হয়ে যাবে,’’ বলেন বিশ্বজিৎবাবু। 

মধ্য কলকাতার চিত্তরঞ্জন কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামলেন্দু চট্টোপাধ্যায় জানান, তাঁদের মেধা-তালিকা এ দিনই বেরিয়েছে। সন্দেশখালি বা বসিরহাট এলাকা থেকে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অসুবিধা তো হচ্ছেই। দু’-এক দিনের মধ্যে পরিষেবা স্বাভাবিক না-হলে সন্দেশখালি বা বসিরহাটের কাছাকাছি কোনও এলাকায় যেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা আছে, সেখানে গিয়ে ইন্টারনেট খুলে মেধা-তালিকা দেখে নেওয়ার পরমর্শ দিয়েছেন তিনি। এ দিন সন্দেশখালির আগারহাট গৌরহরি বিদ্যাপীঠে একাদশ শ্রেণির ভর্তি ছিল। অনেকেই ভর্তি হতে পারেননি। অভিভাবকেরা জানান, ভর্তির জন্য ছবি তুলতে হবে, ফোটোকপি করাতে হবে। কিন্তু বন্‌ধে দোকান বন্ধ। এ দিন বেশ কিছু টোটো, অটো, ছোট গাড়ি চোখে পড়েছে। সেগুলোতে পরীক্ষার্থী পোস্টার সাঁটানো ছিল। বন্‌ধ-সমর্থকেরা সেগুলো আটকাননি।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।