ভোটদানের মতো ভোটার তালিকায় পরিবর্তন করা নিয়েও গ্রামের তুলনায় অনেক বেশি গা-ছাড়া মনোভাব দেখা যায় শহরে। এ বার তাই শহরের ভোটার তালিকায় সংযোজন, বিয়োজন বা সংশোধনকেই ‘পাখির চোখ’ করতে চাইছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। একই সঙ্গে শুধুমাত্র কলকাতার জন্যও পৃথক পরিকল্পনা করতে চাইছেন দফতরের কর্তারা। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন আবাসন বা বহুতলের আবাসিক কমিটিগুলিকে কাজে লাগাতে চাইছেন তাঁরা।

রাজ্যের অন্যান্য এলাকার তুলনায় কলকাতায় ভোটদানের প্রবণতাও বরাবর কম। সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ কলকাতা থেকেই বেশি আসে। এ বার সেই সব অভিযোগ থেকে কলকাতাকে মুক্ত করতে চাইছেন কমিশনের কর্তারা। তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে শুক্রবার জেলাগুলির সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা দক্ষিণ ও কলকাতা উত্তর জেলা নির্বাচনী অফিসারেরা। শেষে সিইও-র দফতরে এসে আরও একটি বৈঠক করেন তাঁরা। 

সূত্রের খবর, শহরের অধিকাংশ বহুতল ও আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যেই ভোটার তালিকা নিয়ে আগ্রহ খুব কম। তা কাটাতে সরাসরি সেখানে যেতে চাইছেন প্রশাসনের কর্তারা। সে ক্ষেত্রে বহুতল বা আবাসনের কমিটিগুলিকে কাজে লাগাতে চাইছেন তাঁরা। শুরুতে ওই কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন প্রশাসনের কর্তারা। তার পরে কমিটির নির্ধারিত দিনে সেখানে যাবেন বুথ স্তরের অফিসার ও কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ও কর্তারা। তাঁদের সঙ্গে থাকবে ল্যাপটপ। সেখানে বসেই ভোটার তালিকার কাজকর্মের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র গ্রহণ করবেন কমিশনের কর্মীরা। কলকাতা দক্ষিণ ও কলকাতা উত্তর জেলা নির্বাচন দফতরকে প্রয়োজনে সরাসরি পরিকাঠামোগত সাহায্য করবে সিইও-র দফতর। প্রসঙ্গত, গত বছরও কলকাতা দক্ষিণে এই ধরনের আবাসনের ক্ষেত্রে উদ্যোগী হয়েছিলেন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তেরা। কিন্তু আবাসন বা বহুতল থেকে কার্যত সাহায্য আসেনি বলেই খবর। সে কারণে এ বার তাঁদের কাছেই পৌঁছে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে চাইছে সিইও-র দফতর। 

লোকসভা ভোটের সময়েও অনলাইনে তালিকা সংযোজন, বিয়োজন বা সংশোধনের আবেদনপত্র জমা দিয়েছে আমজনতা। 

ভোটের কারণে সেই কাজের গতি অনেকটা শ্লথ ছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই তা গতি পাবে বলে দাবি। সেই পর্বে কী ভাবে আমজনতার জন্য ভোটার তালিকার কাজকর্মকে আরও সহজ করে তোলা যায়— তা নিয়ে গত শুক্রবার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স করেছেন সিইও দফতরের কর্তারা। সূত্রের খবর, শহুরে এলাকায় অনলাইন আবেদনকে হাতিয়ার করে স্বচ্ছ এবং নির্ভুল ভোটার তালিকার প্রসঙ্গ বৈঠকে বারবার উঠে এসেছে। ‘ভোটার হেল্পলাইন’ অ্যাপের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটগুলিকে আরও জনপ্রিয় করতে চাইছে রাজ্য সিইও দফতর। সেই কারণে ভোটার তালিকার কাজে কমিশনের যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে, তা আরও প্রচারে আনতে চাইছে তারা।