বাঙালির কার্টুনচর্চার একটা অধ্যায় শেষ হল। বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা গেলেন কার্টুনিস্ট চণ্ডী লাহিড়ী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮।

গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন চণ্ডীবাবু। মঙ্গলবার তাঁকে আরজি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ দিন দুপুর ১টা ৫০ নাগাদসেখানেই তিনি মারা গিয়েছেন। তাঁর মেয়ে তৃণা লাহিড়ী নিজেও এক জন পেপার কাটিং শিল্পী। তিনি বলেন, ‘‘কয়েক দিন ধরেই বাবার শরীরটা ভাল যাচ্ছিল না। সোমবার খুবই অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সব শেষ হয়েগেল।’’

নদিয়া জেলার নবদ্বীপে ১৯৩১-এর১৬ মার্চ জন্মেছিলেন চণ্ডী লাহিড়ী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। যে বছর দেশ স্বাধীন হয়, সেই ১৯৪৭-এ তিনি স্কুল ফাইনাল পাশ করে কলেজে ভর্তি হন। এর পর ১৯৫২ সালে তিনি ‘দৈনিক লোকসেবক’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন।

মৃত্যুর কিছু দিন আগে চণ্ডী লাহিড়ী।

আনন্দবাজার গোষ্ঠীতে যোগ দেন ১৯৬২ সালে। প্রায় ২০ বছর এই গোষ্ঠীতেই কার্টুনিস্ট হিসাবে কাজ করেছেন।তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে আসে শিল্পী এবং কার্টুনিস্ট মহলে। শিল্পী দেবাশীষ দেব বলেন, ‘‘চণ্ডীবাবু আপাদমস্তক এক জন কার্টুনিস্ট ছিলেন। বাংলা ভাষা এবং দেশবিদেশের ইতিহাস একেবারে গুলে খেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বাঙালির কার্টুনচর্চা ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হল।’’

আরও পড়ুন:
বসুর মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা মমতার

কার্টুন দু'টি চণ্ডী লাহিড়ীর 'থার্ড আই ভিউ' বইটি থেকে নেওয়া।
ক্যাপশন ইংরেজি থেকে অনূদিত। সৌজন্যে আনন্দবাজার আর্কাইভ।

কার্টুন এবং কার্টুনিস্টদের নিয়ে একাধিক বই লিখেছেন চণ্ডীবাবু। ছোটদের ‘মিচকে’, ‘নেংটি’র পাশাপাশি বড়দের জন্য তাঁর লেখা ‘বিদেশিদের চোখে বাংলা’, ‘চণ্ডীর চণ্ডীপাঠ’, ‘বাংলা কার্টুনের ইতিহাস’ বাঙালির কাছে সমাদৃত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া কলেজ স্ট্রিট পাড়াতেও। প্রকাশক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘বাংলার কার্টুন জগতের শেষ মহীরূহ চলে গেলেন।’’

এ দিন রাতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সম্পর্কে চণ্ডীবাবুর নাতি প্রসেনজিৎ গোস্বামী।