কয়েক দিনের দফায় দফায় বৃষ্টিতে বলাগড়ে মার খেয়েছে পেঁয়াজ চাষ। দাম না-মেলায় বিপাকে বহু চাষি। তাঁদেরই এক জন বুধবার আত্মঘাতী হয়েছেন। মৃতের নাম সুমন্ত ঘোষ (৩১)। তিনি সিজা-কামালপুর পঞ্চায়েতের গৌরনই গ্রামে থাকতেন। সুমন্তর বাবা মথুরবাবু পরিস্থিতির জন্য প্রকৃতিকেই দুষছেন। বলেন, ‘‘ছেলেটা সারা দিন খাটত। বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার কারণে ছেলেটা আগাছা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মঘাতী হল।’’

প্রায় ৫ বিঘে জমি রয়েছে সুমন্তদের। সঙ্গে আরও বিঘে পাঁচেক জমি লিজ নিয়ে সুমন্ত পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। কিন্তু নষ্ট পেঁয়াজ খেতেই পড়ে। এ জন্য সুমন্ত মনমরা ছিলেন। বুধবার সকালে তাঁকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই গভীর রাতে মারা যান। সুমন্তর খুড়তুতো দাদা স্মরজিৎ ঘোষ বলেন, ‘‘দফায় দফায় বৃষ্টিই সব শেষ করে দিল। পেঁয়াজের দাম না-থাকায় সুমন্ত অন্যের জমির পেঁয়াজ ট্রাক্টরে করে তুলে আনার কাজ করছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের রাতে ফের বৃষ্টিতে ওর জমিতে পড়ে থাকা পেঁয়াজের আরও ক্ষতি হয়।’’

অসম লিঙ্ক রোড ধরে এই ব্লকের খামারগাছির পথেই চোখে পড়ছে খেতে ডাঁই করে রাখা পেঁয়াজের বস্তা। চাষিদের ক্ষোভ, পেঁয়াজ তুলে লাভ কী? মাঠ থেকে আনার খরচও পোষাবে না। পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের তরফে কেউ পরিস্থিতির খোঁজ নিতে আসেননি বলেও তাঁদের অভিযোগ। তবে ক্ষতিপূরণের জন্য কৃষি দফতরে তাঁরা দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। গৌরনই গ্রামেরই গৌতম ঘোষের কথায়, ‘‘পেঁয়াজ কেনার লোক নেই। এক প্যাকেট (৫০ কিলোগ্রাম) পেঁয়াজ মাত্র ১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’’

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

সুমন্তর মৃত্যুর কারণ খোঁজ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বিডিও (বলাগড়) সমিত সরকার বলেন, ‘‘বৃষ্টিতে ওখানে পেঁয়াজ চাষে ক্ষতি হয়েছে। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।’’ সিজাকামালপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান‌ অরিজিৎ দাস জানান, দুর্যোগের কারণে যাঁদের চাষ মার খেয়েছে, তাঁদের তালিকা তৈরি করে ব্লক কৃষি দফতরে পাঠানো হয়েছে।