কৃষকের পাশে দাঁড়াতে আগেই ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার দিল্লি থেকে তারই পাল্টা প্রাপ্তি ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’। তবে, সে ঘোষণায় মন ভেজেনি জেলার কৃষকদের অধিকাংশের। রাজ্যের ওই প্রকল্পে কৃষকেরা বছরে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান পেতে পারেন। সেখানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে কৃষকেরা তিন দফায় পাবেন ৬ হাজার টাকা।

শুক্রবার বিকালে বহরমপুরে ব্যারাক স্কোয়ারে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে উপভোক্তাদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আগেই কৃষক বন্ধু প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। এ দিন থেকে উপভোক্তাদের হাতে প্রকল্পের টাকা তুলে দেওয়া শুরু হল। দিদির প্রকল্পকে নকল করেই এ বার দিল্লি  প্রান্তিক চাষিদের জন্য দরাজ হওয়ার চেষ্টা করছে।’’

যদিও বিজেপির মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের কোনও প্রকল্প নকল করে না। কৃষকদের সুবিধার জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’ প্রকল্প চালু করা হল।’’ 

কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদলের নেতারা কৃষকদের পাশে থাকা নিয়ে তরজা শুরু করলেও করলেও কৃষকদের খুশির পাল্লা নবান্নের ঘোষিত প্রকল্পের দিকেই। বহরমপুরের হাটগাছার এহসান আলি শেখ কিংবা সলুয়াডাঙার কৃষক আতাবুদ্দিন শেখ বলছেন, ‘‘রাজ্য সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে দেখে এখন দিল্লির টনক নড়েছে।’’ গত ২৮ জানুয়ারি থেকে জেলাজুড়ে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কৃষকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণ করা শুরু হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত জেলার ৫২ টি মৌজার ৭ হাজার কৃষক আবেদন করেছেন।  শুক্রবার বহরমপুরসহ জেলার বিভিন্ন ব্লকে অনুষ্ঠান করে প্রায় ১১০০ কৃষকের হাতে প্রায় ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে রবি ও খরিফ মরসুমে দু’দফায় একর পিছু ৫ হাজার টাকা অনুদান পাবেন কৃষকেরা। এক একরের কম জমি হলে আনুপাতিক হারে টাকা পাবেন। সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা অনুদান পাবেন।  এক নজরে কেন্দ্রীয় সরকারের এ দিনের বাজেটে ঘোষিত প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি’। ওই প্রকল্পে ২ হেক্টরের কম জমির মালিকরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি বছরে তিন দফায় ২ হাজার করে মোট ৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে।