অসমের ডুমডুমায় ৯ ফেব্রুয়ারি খুন হন পাঁশকুড়ার দুই নির্মাণ শ্রমিক শেখ ইদ্রিস (৫১) ও শেখ মহম্মদ (৫৪)। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁদের দেহ পৌঁছয় গ্রামে। তাঁদের খুনের ঘটনায় এ রাজ্যের শাসক দল অসম সরকারের বিরুদ্ধে ‘বাঙালি নিধন’ তত্ত্বকে খাড়া করেছিল। বৃহস্পতিবার নিহত ইদ্রিসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসে সেই তত্ত্বই ফের উসকে দিলেন রাজ্যের পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী ও জেলার তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

এ দিন সিদ্ধা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালনগর গ্রামে ইদ্রিসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দুবাবু। ইদ্রিসের পরিবারের হাতে নগদ ২ লক্ষ টাকা তুলে দেন তিনি। ওই পরিবার যাতে সমস্ত সরকারি সুবিধা পায় সে ব্যাপারেও পঞ্চায়েত প্রধান অরুণ হাজরাকে নির্দেশ দেন তিনি। এ দিন নিহত ইদ্রিসের স্ত্রী মুর্শিদা বিবিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও ঘটনায় আর যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফএইআর করার এবং সংখ্যালঘু কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনে এই বিষয়ে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন শুভেন্দুবাবু।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ব্যবস্থার ফলেই এই ঘটনা। অসম পুলিশ এই ঘটনাকে ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা ওই দুই পরিবারকে বলব এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে।’’ মুর্শিদা বিবি এদিন জানান, হাবিব নামে যে ঠিকাদার ইদ্রিসকে অসমে কাজে নিয়ে গিয়েছিল, ঘটনার পর থেকে সে তাদের সঙ্গে দেখা করেনি। শুভেন্দুবাবু হাবিববকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নির্দেশ দেন পুলিশকে।

মুর্শিদা বিবি বলেন, ‘‘মন্ত্রী ২ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। পাকা বাড়ি করে দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন। আমি ওঁর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি চাই দোষীরা সাজা পাক। থানায় অভিযোগ জানাব।’’ এ দিন গড় পুরুষোত্তমপুরে শেখ মহম্মদের বাড়িতে যেতে পারেননি শুভেন্দুবাবু। তবে মহম্মদের পরিবারকেও একই রকম ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সুবিধা দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।