অবশেষে সন্ধান পাওয়া গেল দিল্লিতে অনাহারে মৃত্যু তিন শিশুর পিতার প্রকৃত জন্মস্থান৷ ঝাড়গ্রাম জেলার বেলিয়াবেড়া থানার অন্তর্গত জঙ্গলমহলের গভীরে থাকা নেকড়ামহুলি গ্রামের বাসিন্দা তিনি ৷ যাকে মঙ্গল বলে সারাদেশ ইতিমধ্যেই চিনে গিয়েছে, তাঁর প্রকৃত নাম হরিহর সিংহ৷

রোজগারের জন্য প্রায় কুড়ি বছর আগে এ রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি৷ সতেরো বছর আগে বাবা শুকরা সিংহ মারা যান। সেই সময়ই শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল মাত্র ৮ দিনের জন্য। তখন তাঁর বেশভূষা ছিল খানিকটা সন্ন্যাসীর মতো৷ পরিবারের লোকেরা জানতেন হরিহর সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছেন, অথবা মারা গিয়েছেন ৷ তাই তাঁর সন্ধানের চেষ্টাও আর করেননি হরিহরের ভাইয়েরা।

ঝাড়গ্রাম জেলার বেলিয়াবেড়া থানার অন্তর্গত নেকড়ামহুলি গ্রাম৷ ৬ নং জাতীয় সড়ক থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার গভীর জঙ্গলের ভেতরে এই গ্রামটি রয়েছে ৷ ৩২টি আদিবাসী পরিবার নিয়ে এই গ্রাম৷ যাঁদের বেশির ভাগ লোকজনই দিনমজুর, নয়তো কৃষক৷  হরিহর সিংহ ওরফে মঙ্গলের আদিবাস এখানেই৷  পরিবারে মা-বাবা ও পাঁচ ভাই৷ তবে বাবা-মা ও বড় ভাই একাদশি সিংহ মারা গিয়েছেন৷  মঙ্গল কে বাদ দিলে ,বাকি তিন ভাই এখনও ওই গ্রামে থাকেন। চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

প্রত্যন্ত জঙ্গলের ভিতরে থাকা এই গ্রামে সংবাদমাধ্যমের খবরাখবর দেখার মত আগ্রহ তেমন কারওই নেই৷  ফলে মঙ্গল তথা হরিহর সিংহকে নিয়ে দেশজুড়ে যে চাঞ্চল্য চলছে তার কোনও খোঁজই পাননি এঁরা৷ সংবাদমাধ্যম শুক্রবার সকালে সেখানে পৌঁছলে রীতিমতো হকচকিয়ে যান সকলে৷ অনেক খোঁজ করে দেখা পাওয়া গেল হরিহর সিংহের ভাই যতীন্দ্রনাথ সিংহকে৷ সাংবাদিকরা মোবাইলে মঙ্গলের ছবি দেখাতেই চিনে ফেলেন যতীন্দ্রনাথ ৷ তিনি বলেন, “আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগে রোজগারের খোঁজে দাদা চলে গিয়েছিল৷ মাঝে বাবা মারা যাবার পর কয়েক দিন বাড়িতে এসে থেকেছিল৷ পরে আবার বেপাত্তা হয়ে যায়৷ আমরা ভেবেছিলাম সে সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছে, নয়তো মারা গিয়েছে৷ তাই আর কেউ খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করিনি৷  তবে সে বিয়ে করেছিল কিনা, কাকে করেছিল, কোথায় থাকত ,এসব কিছুই জানিনা আমরা।”

দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়া সেই খবর সাংবাদিকদের কাছ থেকে তাঁরা প্রথম পায়৷ তবে তাতে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখাননি মঙ্গলের পরিবার৷ কারণ তাঁর কৈশোর জীবনটাই একটু অগোছালো ছিল প্রথম থেকে ৷ ফলে এ ধরনের ঘটনা যে ঘটতে পারে তা যেন তাদের কাছে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবেই মনে হয়েছে৷ প্রতিবেশী খুড়তুতো ভাই জিশু মান্ডি বলেন,  “হরি যে এখনও বেঁচে রয়েছে৷ আজ আপনাদের কাছেই শুনলাম৷”