মহাকরণ থেকে রাজ্যের সদর দফতর সরে গিয়েছে নবান্নে। সৌজন্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অদূর ভবিষ্যতে কলকাতা হাইকোর্ট রাজারহাটের নিউ টাউনে সরে যাবে কি? বুধবার নিউ টাউনে কলকাতা হাইকোর্টের নতুন চত্বরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব মেলেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে বিচারপতি, আইনজীবী, আইন দফতরের কর্মচারী-সহ সকলকে অনুরোধ করেন, ‘‘আপনারা সকলে এখানে এসে ভাল করে কাজ করুন।’’

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এ দিনের অনুষ্ঠানে জানান, স্ট্র্যান্ড রোডের ধারে এসপ্লানেড রো ওয়েস্ট ঠিকানায় প্রাচীন হাইকোর্ট ভবনে জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে। আদালত কক্ষ নেই। সব বিচারপতিকে আলাদা চেম্বার দেওয়া যাচ্ছে না। নথিপত্র সংরক্ষণে ব্যাঘাত ঘটছে। নথির ‘ডিজিটাইজেশন’-এর জায়গা মিলছে না। সর্বোপরি পুরনো ভবন এবং তার সংলগ্ন আরও দু’টি ভবনের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, হাইকোর্টের পাশে সব ট্রাইবুনাল আদালতও থাকা দরকার। পুরনো জায়গায় তা সম্ভব নয়। তাই হাইকোর্টের জন্য বড় জায়গা বরাদ্দ করতে একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান প্রধান বিচারপতি।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘‘আমরা আধ ঘণ্টার মধ্যে হাইকোর্টের জন্য জমি খুঁজে দিয়েছিলাম। বিচারপতিরা জায়গা পছন্দ করার কয়েক দিনের মধ্যেই ১০ একর জমি মাত্র এক টাকার বিনিময়ে হাইকোর্টের হাতে তুলে দিয়েছি।’’ ১০ একর জমিতে শীঘ্রই সীমানা-প্রাচীর লাগানোর জন্য হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান।

প্রধান বিচারপতি এ দিনের অনুষ্ঠান চলাকালীনই রাজ্য প্রশাসনের কাছে ট্রাইবুনালগুলির জন্য তিনটি জমি দিতে অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধ শুনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই জমিও দেওয়া হবে।’’