কোপ থেকে হামলা, অশান্তিতে ছেদ নেই
গোলমালের বিরাম নেই কোচবিহারে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটে জেতার পর থেকে এই জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের দাপট দেখানোর চেষ্টা করছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
BJP

প্রতীকী ছবি।

ভোটের আগে হয়েছে। ভোট চলাকালীন হয়েছে। ভোটের ফল ঘোষণার পরেও অশান্তি থামার নাম নিচ্ছে না। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজনৈতিক হিংসা অব্যাহত। শনিবার রাত থেকে রবিবার, বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষ বেধেছে বহু জায়গায়। 

গোলমালের বিরাম নেই কোচবিহারে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটে জেতার পর থেকে এই জেলার বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের দাপট দেখানোর চেষ্টা করছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। রবিবার সকাল থেকেও সিতাই-সহ একাধিক জায়গায় বাইক বাহিনীর দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। মাথাভাঙায় কোথাও তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙচুর করে আগুন লাগানো, তৃণমূল কর্মীদের দোকান ভাঙচুর, কোথাও আবার তাদের দলীয় অফিস দখল করে বামেদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি-র সন্ত্রাসে তাদের বহু কর্মী-সমর্থক গ্রামছাড়া। যাবতীয় অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।

এ দিন সকালে আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা থানার ভাটিবাড়িতে এক তৃণমূল সমর্থককে ধারাল অস্ত্রের কোপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, তৃণমূলের অনুপ দাসের অভিযোগ, ‘‘বিজেপি আক্রমণ করছে আমাদের সমর্থককে। কিন্তু পুলিশ নীরব।” বিজেপির জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার দাবি, ‘‘সুপুরি বাগান নিয়ে ওই এলাকায় তৃণমূলের লোকজনই সমস্যা করেছিল বলে শুনেছি। পুলিশ ঠিক ভাবে তদন্ত করলেই প্রমাণ হয়ে যাবে, এই ঘটনায় আমাদের কেউ জড়িত নন।’’ 

অশান্তিতে তেতে আছে নদিয়াও। শান্তিপুরে শনিবার রাতে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার বাড়িতে হামলা হয়। মৌমিতা বিশ্বাস নামে ওই সদস্যা গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে জয়ী হলেও ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূলে যোগ দেন। হামলার ঘটনায় বিজেপির দিকেই আঙুল উঠেছে। শনিবার রাতেই তাহেরপুর থানার জয়পুর 

গ্রামে এক বিজেপি সমর্থকের বাড়িতে হামলা করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময়ে দিলীপ বিশ্বাস নামে ওই ব্যক্তি বাড়িতে ছিলেননা। তাঁর স্ত্রী, দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে এবং কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। রবিবার সন্ধায় তাহেরপুরেরই পুরাতনপাড়া এলাকায় বিজেপি-র বিজয় মিছিল থেকে স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ। ভাঙচুরের পাশাপাশি ওই তৃণমূলকর্মীর স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। শুক্রবার রাতে চাকদহে সন্তু বিশ্বাস নামে এক বিজেপি কর্মী খুন হন। বিজেপি প্রথম থেকে এই খুনে তৃণমূলের হাত আছে বলে দাবি করলেও শনিবার রাতে পুলিশ সন্তুরই এক বন্ধুকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করেছে। 

পাঁশকুড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধুসূদনবাড়ে শনিবার রাতে তৃণমূলের কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপি-র বিরুদ্ধে। বিজেপি অভিযোগ মানেনি। ওই রাতেই সন্দেশখালি থানার শীতলিয়া পোলপাড়ায় বিজেপি নেতার ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দুষ্কৃতীদের বোমায় কয়েক জন আহতও হন। গুলিও চলে। তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রবিবার সকালে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে তেতে ওঠে বোলপুরের কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের গোপালপুর গ্রাম। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গ্রামবাসীদের ১০০ দিনের কাজের জবকার্ড তৃণমূল কর্মীরা নিজেদের কাছে নিয়ে রেখেছিলেন। সেই সব জবকার্ড চাওয়াকে কেন্দ্র করেই মারামারি। ঘটনায় দু’জন বিজেপি সমর্থক ও দু’জন তৃণমূল সমর্থক আহত হন। 

রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘কোনও ধরনের হিংসা আমরা সমর্থন করি না। বিজেপি-ই নতুন করে এই ঝামেলার সংস্কৃতি আমদানি করছে। এটা করে মানুষের মন জয় করা যায় না।’’ তাঁর অভিযোগ, কাঁকিনাড়া, বজবজ প্রভৃতি জায়গায় সংখ্যালঘু ও বাঙালিদের উপরে হামলা হচ্ছে। কিন্তু এ ভাবে বাংলার শান্তি, অগ্রগতি বিঘ্নিত করা যাবে না। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘এ ধরনের সংঘর্ষ যাতে না হয়, সেটা দেখা সরকারের দায়িত্ব। আমাদের কর্মীদের বলেছি, কোনও রকম হিংসায় জড়াবেন না।’’

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত