স্বাধীনতা দিবসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার উচ্ছেখালি এলাকায় একটি সুমো গাড়ি পুকুরে পড়ে যাওয়ায় তিন মহিলা-সহ সাত জনের মৃত্যু হয়। জেলা প্রশাসন এবং সাংসদ তহবিল থেকে মৃতদের মাথপিছু দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে জেলা প্রশাসনের তরফে মৃতের পরিজনদের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলাশাসক পি উলগানাথন। মৃত মুস্তাফা শেখের স্ত্রী এবং এক ছেলে ও মেয়ে আছেন। সেই জন্য ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ তহবিল থেকে ওই পরিবারকে বাড়তি দু’লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।

ওই দিন ভোরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। জলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান আলতাব শেখ (২৯), আকাশ আলি শেখ (৪৮), সেলিনা বিবি (৪৫), ইসমাতারা খাতুন (১৮) মুস্তাফা শেখ (৩২), মিরাজ শেখ (১৯), ফুলজান বিবি (৫২)। তাঁদের মধ্যে ফুলজান ছাড়া ছ’জনের বাড়ি বিষ্ণুপুর থানার দক্ষিণ গৌরীপুর গ্রামে। ফুলজান বিষ্ণুপুর থানা এলাকারই জলিলপুর গ্রামের বাসিন্দা। আলতাব কাতার থেকে স্বাধীনতা দিবসে কলকাতায় ফেরেন। বিমানবন্দর থেকে সুমো গাড়িতে তাঁকে নিয়ে দক্ষিণ গৌরীপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন পরিবারের ছ’জন। দুর্ঘটনার পরে চালক পালিয়ে যান। আশপাশের লোকজন উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আসে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গাড়ির দরজা বন্ধ থাকায় মারা যান সাত জন। আলতাবের দেহ উদ্ধারের পরে বাসিন্দারা তাঁকে চিনতে পেরে বাড়িতে খবর দেন। চলে আসেন পরিবারের অন্য লোকজন। ফরেন্সিক অফিসারেরা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে জানান, ডান দিকের পিছনের চাকা ফেটে যাওয়াতেই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। গাড়িচালকের বাড়ি বিষ্ণুপুরেরই ভাঙারিয়ায়। তিনি পালালেও গাড়িতে তাঁর মোবাইল মিলেছে। তাঁর খোঁজ চলছে।