আগাগোড়া ‘কমন’ প্রশ্নপত্র, উত্তরটাও জানা। তা সত্ত্বেও ডেঙ্গি-পরীক্ষায় বারবার ফেল করার কারণ কী? প্রশ্নটা কিছু স্বাস্থ্যকর্তা-সহ অনেকেরই। উত্তরে একটা অসুখের কথা বলছেন স্বাস্থ্য শিবিরেরই কেউ কেউ। সেটা হল আত্মতুষ্টি। এ বার হাবড়া ও অশোকনগরের ডেঙ্গি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ভবনের কর্তাদের একাংশের উপলব্ধি, আত্মতুষ্টিতে ভুগলেই বিপদ!

ডেঙ্গি মোকাবিলায় নজরদারিতে ঘাটতির অভিযোগ এড়াতে এ বছর শুরু থেকে দফায় দফায় বৈঠক, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা পরিকাঠামোর মানোন্নয়নে জোর দিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। তার পরেও হাবড়া ও অশোকনগরে ডেঙ্গি-জ্বরে মৃত্যু আটকানো যাচ্ছে না। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের খবর, এ বছর এখনও পর্যন্ত ওই জেলায় নথিভুক্ত ডেঙ্গি-আক্রান্তের সংখ্যা দু’হাজার। তাঁদের পঞ্চাশ শতাংশই হাবড়া পুর এলাকার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, এই পরিস্থিতির একটি বড় কারণ ‘আত্মতুষ্টি’। পরিসংখ্যান পেশ করে তাঁরা জানান, হাবড়ার ন’নম্বর ওয়ার্ড থেকে এ বছর ডেঙ্গি সংক্রমণের সূচনা হয়। তখনই সতর্ক হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ভবন থেকে বার্তা গিয়েছিল। কিন্তু সেই বার্তাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকেরা সন্দিহান। এক আধিকারিক বলেন, ‘‘অশোকনগরে জুনে নথিভুক্ত ডেঙ্গি-আক্রান্তের সংখ্যা ছিল দুই। জুলাইয়ে তা ৫০ ছাড়িয়ে যায়। রোগটার এতখানি বাড়বাড়ন্ত কিন্তু সব ঠিক থাকার লক্ষণ হতে পারে না!’’ স্বাস্থ্য ভবনের কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, কয়েক দিনের বৃষ্টির পরে সংশ্লিষ্ট সব পুরসভাতেই বাড়তি সতর্কতা দরকার।

হাবড়া ও অশোকনগরের পুর-প্রশাসনের কর্তারা অবশ্য আত্মতুষ্টির তত্ত্ব মানতে রাজি নন। হাবড়া পুর-কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রথমে লোকসভা ভোটের ব্যস্ততা এবং পরে পুরসভার অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্যও ডেঙ্গি মোকাবিলার কর্মসূচি মার খেয়েছে। ‘‘চেষ্টার কোনও খামতি ছিল না। বর্ষা ঠিক সময়ে না-আসায় ডেঙ্গি বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে,’’ বলছেন অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকার।

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ ও উত্তর দমদমে ন’জন ডেঙ্গি-আক্রান্তের খবর ছিল। দমদমের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা তিন। বিধাননগর পুরসভা এলাকায় ডেঙ্গি-আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের এক কর্তা বলেন, ‘‘কলকাতা, দমদম, দক্ষিণ দমদম, উত্তর দমদমের অবস্থা এখনও পর্যন্ত সন্তোষজনক। কিন্তু আত্মতুষ্টিতে ভুগলে এই সংখ্যা বদলাতে সময় লাগবে না।’’ সম্প্রতি দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়ির তিন জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন। পুরপ্রধান বলেন, ‘‘পরিদর্শনে গিয়ে ওই বাড়িতে যে-পরিমাণ মশার লার্ভা দেখা গিয়েছে, তা উদ্বেগজনক।’’

স্বাস্থ্য ভবনের অন্য এক কর্তা জানাচ্ছেন, হাবড়া-অশোকনগরের পরিস্থিতি কেন এত খারাপ হয়ে গেল, সেই বিষয়ে পরে নিশ্চয়ই পর্যালোচনা হবে। আপাতত পরিস্থিতির মোকাবিলা করাই লক্ষ্য। স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘প্রাথমিক স্তরে জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজে ঘাটতি থাকতে পারে। এখন খুব ভাল কাজ হচ্ছে। বছরের বাকি সময়ে অন্য পুরসভাগুলিতে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সব দিক থেকে।’’