• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মোদীর সভা ঘিরেও মাঠ-সঙ্কট, প্রধানমন্ত্রী চাইলে আটকায় কে! চ্যালেঞ্জ বড়মার নাতির

Modi and Shantanu
নরেন্দ্র মোদী ও শান্তনু ঠাকুর।—ফাইল চিত্র।

Advertisement

আইনি জটিলতায় রাজ্যে আটকে গিয়েছিল বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও রথযাত্রা’। এ বার মাঠ সমস্যা দেখা দিল আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরনগর এবং দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা ঘিরেও। ঠাকুরনগরে মেলার মাঠে সমাবেশ করা নিয়ে জট বেড়েই চলেছে। অন্য দিকে মাঠ সমস্যার জেরে শেষ মুহূর্তে সভাস্থল পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বিজেপি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুর্গাপুরের সভা পূর্বনির্ধারিত রাজীব গাঁধী মেলা ময়দানের বদলে নেহরু স্টেডিয়ামে করা হবে বলে রাজ্য বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে।

ঠাকুরনগরে নরেন্দ্র মোদীর সভার আয়োজনে নেই রাজ্য বিজেপি। এখানে নরেন্দ্র মোদীর সভার আয়োজন করছে সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের তরফে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছেলে শান্তনু ঠাকুর। মতুয়া সমাজের প্রধান উপদেষ্টা বীণাপানি দেবী (বড়মা)-র সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাৎ হবে কিনা, এত দিন জট ছিল তা নিয়েই। প্রধানমন্ত্রী যে বীণাপানি দেবীকে প্রণাম করতে যাবেন, সেই কথা জানিয়েছিলেন শান্তনুই। অন্য দিকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা তৃণমূলের সভাপতি, বিধায়ক ও মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, ‘‘প্রণাম গ্রহণ দূরের কথা, বড়মা দেখাই করবেন না প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।’’

বীণাপানি দেবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ বিতর্ক এখনও না মিটলেও এ বার দেখা দিল মাঠ নিয়ে জট। সরাসরি এই অনুষ্ঠানের আয়োজক না হলেও প্রধানমন্ত্রীর ঠাকুরনগর সফরের বিষয়টি দেখভাল করছেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও ২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরনগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের মেলার মাঠে অন্য মিটিং আছে বলে সভা আটকানোর চেষ্টা চলছে, পাওয়া যাচ্ছে সেই ইঙ্গিত।

আরও পড়ুন: বীণাপানির পা ছুঁয়ে ঠাকুরনগরের মঞ্চে উঠবেন মোদী, দেখাই করবেন না বড়মা, চ্যালেঞ্জ জ্যোতিপ্রিয়র

পুরো বিষয়টি জানার পর মতুয়া মহাসঙ্ঘের তরফে মুখ খুলেছেন আয়োজক শান্তনু ঠাকুর। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘এই মেলার মাঠ কি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের? ঠাকুরবাড়িও কি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পৈত্রিক সম্পত্তি? উনি এখানে বলার কে, আমি সেটাই বুঝতে পারছি না।’’ একই সঙ্গে শান্তনু জানিয়েছেন, ঠাকুরনগর মাঠে নরেন্দ্র মোদীর সভা হওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত সভা করতে অনড় থাকলে সেই সভা কী করে করতে হয় তাও জানা আছে বলে সুর চড়িয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: মোহতা কাণ্ড: কেন্দ্রকে তোপ মমতার, টলিউডের রক্ত চুষছে সিন্ডিকেট, পাল্টা দিলীপ-লকেট

ঠাকুরনগরের পাশাপাশি সমস্যা দেখা দিয়েছে একই দিনে দুর্গাপুরে নরেন্দ্র মোদীর সভা ঘিরেও। এখানে সভার আয়োজক বিজেপিই। রাজ্য বিজেপির তরফে প্রথমে ঠিক করা হয়েছিল সভা হবে রাজীব গাঁধী মেলা ময়দানে। এই প্রাঙ্গনে প্রায় তিন লক্ষ মানুষ ধরে বলে জানান তাঁরা। এই মাঠ কেন্দ্রের হলেও সভার অনুমতি পেতে স্থানীয় পুলিশের একটা অনুমতি লাগে।  স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের তরফে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেই জানাচ্ছে রাজ্য বিজেপি। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নেহরু স্টেডিয়ামে সভা করার কথা ভাবছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির তরফে দলের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু জানিয়েছেন, ‘‘ রাজ্য সরকার যুক্তি দেখাচ্ছে, ওখানে ৩ ফেব্রুয়ারি অন্য একটি অনুষ্ঠান আছে। সেই জন্য ২ ফেব্রুয়ারি সভা করা যাবে না। রাজ্য সরকার যে বাধা দিতে চায়, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট।’’ পাশাপাশি সায়ন্তন বসু জানিয়েছেন, রাজীব গাঁধী মেলা ময়দান না পাওয়ায় তিন লক্ষ মানুষের সমাবেশ করা সম্ভব নয়। আপাতত দেড় লক্ষ মানুষের জমায়েতের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন