মেয়ে বাড়ি ফিরতে দেরি করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন বাবা। রাস্তায় বেরিয়ে খোঁজখবর নিতেই মাথায় হাত। মেয়ে নাকি পাশের গ্রামে বিয়ে করতে চলে গিয়েছে!

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সন্ধেয়। মেয়েটির বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায়, পৃথিবা গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলবেড়িয়া গ্রামে। বাবা পেশায় দিনমজুর। পরিবারের দাবি, বাজারে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নবম শ্রেণির ছাত্রী, বছর পনেরোর ওই মেয়ে। খুঁজতে বেরিয়ে বাবা জানতে পারেন, পাশের গ্রাম সোনাকানিয়ার এক যুবক বাজারেই অপেক্ষা করছিল তাঁর মেয়ের জন্য। তার সঙ্গেই মেয়ে চলে গিয়েছে। ছেলের বাড়িতে নাকি বিয়ের আয়োজনও সম্পূর্ণ।

দেরি না করে, মেয়েটির বাবা সোজা চলে যান হাবরা থানায়। নাবালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগের কথা শুনে, সোনাকানিয়া গ্রামে যুবকটির বাড়িতে যায় পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন শিশু কল্যাণ কর্মীরাও।

বিয়ের তোরজোর চলাকালীনই উদ্ধার করা হয় ওই নাবালিকাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, মেয়েটি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে দাবি, বিয়ের বিষয়ে তার কিছুই জানা ছিল না।

আরও পড়ুন, পাশ-ফেল নিয়ে জোর তরজা বাম, এসইউসির

আরও পড়ুন, গৃহশিক্ষকতা বন্ধে এগিয়ে আসছে স্কুলই

ছেলেটির পরিবারের বলে, আঠারো বছরের আগে বিয়ে যে আইনত দণ্ডনীয়, তা তাঁদের জানাই ছিল না। আইন না জানার ফলেই এমন ঘটনা। মেয়েটিকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তাঁরা। মুচলেখা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, আঠারোর বছরের আগে মেয়েটিকে বিয়ের কোনও রকম চেষ্টাই আর করবে না ছেলেটি।

রাতেই মেয়েটি ফিরে যায় তার বাড়িতে। পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ না আসায়, কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি।