গত সাত দিনে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে জ্বরে। তার মধ্যে তিন জনের ছিল ডেঙ্গি। ঘরে ঘরে জ্বর। এ রকম পরিস্থিতিতে শনিবার দেগঙ্গায় গিয়ে ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজকর্ম খতিয়ে দেখলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিডিও অফিসে গিয়ে প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন আধিকারিকেরা।

তবে প্রতিনিধি দল, এ দিন ডেঙ্গি উপদ্রুত এলাকা ঘুরে না দেখায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকার মানুষের মধ্যে। শুক্রবার আমুলিয়া এলাকায় গিয়ে কার্যত তাড়া খেয়ে ফিরতে হয় দেগঙ্গার বিধায়ক, বিডিও-কে। প্রশাসন সুত্রে খবর, সেই কারণে এ দিন এলাকায় ঢোকার ঝুঁকি নেননি স্বাস্থ্য আধিকারিককেরা। তবে উপদ্রুত এলাকায় তাঁরা কেন গেলেন না, এ দিন সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান প্রতিনিধি দল। শুধু জানায়,  প্রশাসনিক কাজ ছিল। যা কিছু আলোচনা হয়েছে তা স্বাস্থ্য দফতরে জানিয়ে সেখান থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তিনটি দল বনগাঁ-গাইঘাটা, হাবড়া-অশোকনগর এবং দেগঙ্গায় যান। বনগাঁ-গাইঘাটাতে ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী। দেগঙ্গার দলটিতে স্বাস্থ্য দফতরের যুগ্ম সচিব রূপম বন্দ্যোপাধ্যায়, জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহ-অধিকর্তা পল্লব 

ভট্টাচার্য ছাড়াও ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে এ দিন জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত এই জেলায় মোট ৩১৫২ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত। এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি সুত্রে অবশ্য সংখ্যাটা অনেক বেশি।

এ দিন প্রথমে দেগঙ্গার বিশ্বনাথপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন আধিকারিকেরা। এর পরে দেগঙ্গার বিধায়ক, বিডিও এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা ঘুরে দেখেন। রক্ত পরীক্ষার ঘরের সামনে এ দিনও ছিল জ্বরে আক্রান্তদের ভিড়। তা দেখে এলাইজা যন্ত্রে যাঁরা রক্ত পরীক্ষা করছিলেন, সেই কর্মীদের সঙ্গেও 

কথা বলেন তাঁরা। এর পরে দুপুরে দেগঙ্গা ব্লক অফিসে ১৩টি পঞ্চায়েতের প্রধান ও কর্মীদের সঙ্গে ডেঙ্গি মোকাবিলার প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। 

জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কল্যাণ রঞ্জন মুখ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘ডেঙ্গি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত টাকা বরাদ্দ হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর চেষ্টাও করে যাচ্ছে সঠিক পরিষেবা দেওয়ার। এ দিন বৈঠকে এসব নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও সচেতন ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’’