সর্বভারতীয় বেতন কাঠামোর সমতুল হার চেয়ে অনশন-আন্দোলন করছেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের একাংশ। কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা বরাবরই সরব। নাম না করেই রবিবার ‘শহিদ দিবসে’র মঞ্চ থেকে আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ‘গরিবের দল’ বলে তাদের উপরে অনেকের রাগ আছে, এমন অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রেই এ দিন তাঁর মন্তব্য, ‘‘কেউ কেউ দাবি নিয়ে বসে পড়ছে রাস্তায়। কেন্দ্রের হারে বেতন চাইলে চলে যাও কেন্দ্রে। কেন্দ্রের চাকরি করো, কেন্দ্রের টাকা নাও! আমার কিছু যায় আসে না।’’

মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রী যখন ধর্মতলায় বক্তৃতা করছেন, সেই সময়ে বিধাননগরে বিকাশ ভবনের পাশে অনশনরত শিক্ষকদের মঞ্চে গিয়েছিলেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী ও কংগ্রেসের সচেতক মনোজ চক্রবর্তী। সুজনবাবু বলেন, ‘‘এই শিক্ষেকেরা কেন্দ্রীয় হারে বেতন চাইছেন না। সর্বভারতীয় যোগ্যতামান মেনে তাঁরা কাজে নিযুক্ত হয়েছেন, তাই সর্বভারতীয় কাঠামোর সমতুল বেতন দাবি করছেন। মুখ্যমন্ত্রী না জেনেই আনতাবড়ি কথা বলে সমস্যা জটিল করছেন, শিক্ষকদের অসম্মান করছেন।’’ শিক্ষকদের দাবিকে সমর্থন করেছেন মনোজবাবুও।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, ‘‘ডি এ-র তুলনা তো কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গেই হবে। উনি দিতে না চাইলে কেন্দ্রের সমগোত্রীয় সরকার এসে কেন্দ্রীয় হারেই ডি এ দেবে।’’ বিজেপি-প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী পরিষদ বলেছে, চাপে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে  বেতন কমিশনের উল্লেখ করতে বাধ্যে হয়েছেন। ডি এ নিয়ে সত্যের অপলাপ হয়েছে। অনশনরত প্রাথমিক শিক্ষকদের অপমান করা হয়েছে।

তাদের জাতীয় দলের স্বীকৃতি কেন প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে তৃণমূলকে নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দলের ‘শহিদ দিবসে’র মঞ্চে দাঁড়িয়ে কমিশনের সেই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ধর্মতলার সমাবেশের মঞ্চ থেকে রবিবার তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্য, ‘‘ঠিক হয়েছিল, ১০ বছর অন্তর দলের ‘স্টেটাস’ দেখা হবে। এখন আবার বলছে, জাতীয় দলের স্বীকৃতি থাকবে না। আমরা আঞ্চলিক রাজনীতি করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে গিয়েছি। জাতীয় স্বীকৃতি নিয়ে কিছু যায় আসে না। আমাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকবে।’’