উলটপুরাণ। মাত্র কিছু দিন আগে কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এক কাশ্মীরি চিকিৎসক। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি কাশ্মীরি। সে দিন যাঁরা আক্রমণ করেছিলেন, এখন তাঁদেরই কেউ কেউ ক্ষমা চাইছেন। দাবি সেই চিকিৎসকের। যা পড়ে নেটিজেনদের একাংশ লিখছেন— ‘এটাই কলকাতা। মানবিক কলকাতা।’ 

পুলওয়ামার ঘটনার পর কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কাশ্মীরিদের উপর চড়াও হচ্ছিল ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী’রা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক কেন্দ্রীয় নেতা কলকাতায় এসে সমস্ত কাশ্মীরিদের কার্যত ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দিয়ে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‘স্বাভাবিক ভাবাবেগের বশবর্তী হয়েই মানুষ আক্রমণ চালাচ্ছেন ওদের উপর। এটা হওয়ারই ছিল।’’ কলকাতার এক কাশ্মীরি চিকিৎসকও সে সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রীও সেই ঘটনা উল্লেখ করেছিলেন। পুলিশের নির্দেশে সে সময় সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে নিজের নাম, পরিচয়, বাসস্থান গোপন রেখেছিলেন চিকিৎসক। 

বুধবার সকালে সেই চিকিৎসকই তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে জানান, যাঁরা তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন, তাঁদেরই এক জন অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। গুরুতর অসুস্থ বৃদ্ধাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক। আর জিতে নিয়েছেন আক্রমণকারীর ‘ক্ষমা প্রার্থনা’। তাঁর দাবি, পায়ে হাত দিয়ে দোষ স্বীকার করেছেন সেই ব্যক্তি। যদিও এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কথা বলতে চাননি ওই চিকিৎসক। জানিয়েছেন, এ সব কথা প্রকাশ্যে আনতে চান না। প্রচার তাঁর উদ্দেশ্য নয়। এমনকি, জানাতে চাননি সেই ক্ষমাপ্রার্থীর নামও।