জলপথে বিপদ-আপদের খবর পেতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া মানুষগুলি উপকূলরক্ষী বাহিনীর অন্যতম ভরসা। বস্তুত, উপকূলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীরাই ওই বাহিনীর চোখ-কান। কিন্তু হাজারো পরামর্শেও সেই সব ‘চোখ-কান’ রক্ষীদের কথা ঠিকমতো মেনে চলে না। তাই এ বার শুধু মৎস্যজীবী নয়, তাঁদের পরিবারকে, বিশেষত তাঁদের স্ত্রীদের সতর্ক-সচেতন করতে চাইছেন উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্তারা। 

উর্দিধারীদের ধমকের থেকেও বৌয়ের ধমকের জোর যে বেশি, তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই মিলেছে বলে জানান উপকূলরক্ষী বাহিনীর এক কর্তা। তাই ধীবর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে তোলা হচ্ছে। ওই কর্তা জানান, তামিনলাড়ুতে মৎস্যজীবীদের নৌকায় বসানোর জন্য বিপদঘন্টি দিয়েছিল বাহিনী। কিন্তু দেখা গেল, মৎস্যজীবীরা সেই সব ঘন্টি খোলা বাজারে বিক্রি করে সেই টাকায় মদ খাচ্ছেন! ফলে সাগরে গিয়ে বিপদে প়ড়লে খবর ঠিকমতো মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত ধীবরদের স্ত্রীদের এই ব্যাপারে বোঝানো হয়। পরিবারের ধমক খেয়ে বেশির ভাগ মৎস্যজীবী শুধরে গিয়েছিলেন।

উপকূলরক্ষীদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগের এক পদস্থ কর্তা জানান, ১ ফেব্রুয়ারি বাহিনীর প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই উপলক্ষে তাঁদের আওতায় থাকা দুই পূর্বাঞ্চলীয় 

রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ আর ওড়িশাতেও ধীবর পরিবারকে সচেতন করার কাজ শুরু হবে। ওই কর্তা বলেন, ‘‘প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য শিবির, মোটরবাইক র‌্যালির মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। সেই সব অনুষ্ঠানের সূত্র ধরেই এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। রুটিনমাফিক কাজের বাইরে এটা আমাদের সামাজিক উদ্যোগ।’’

উপকূলীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই জানাচ্ছেন, এই ধরনের ‘সামাজিক কাজ’-এ উপকার হয় বাহিনীরও। ২৬/১১-র মুম্বই হামলার পরে দেখা গিয়েছিল, কাসবেরা জেলে নৌকায় চেপে এ দেশে ঢুকেছিল। সেটা ধীবরেরা টেরও পেয়েছিলেন। কিন্তু সচেতনতার অভাবে সেই খবর ঠিকমতো যথাস্থানে পৌঁছয়নি। সেই হামলার পরেই উপকূলরক্ষী বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হয়। তার পরে এই ধরনের সামাজিক কাজ আরও বে়ড়েছে। এই ধরনের কাজে উপকূলরক্ষী বাহিনীর গোয়েন্দাদের নানা ভাবে উপকার হয়।

বাহিনী সূত্রের খবর, চেতক হেলিকপ্টার পুরনো হয়ে যাওয়ায় উপকূলরক্ষীদের ভাঁড়ারে ১৪টি ‘ধ্রুব’ অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার আসছে। তার মধ্যে দু’টি মোতায়েন করা হবে ভুবনেশ্বরে। বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘বঙ্গোপসাগরে আরও নিবি়ড় ভাবে টহল চালাতে ধ্রুব কপ্টার প্রয়োজন।’’