রাজ্যের বিভিন্ন জেলে বন্দিদের চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ ওঠে হামেশাই। জেলে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি চেয়ে এ বার কারা দফতরকে চিঠি দিলেন বন্দিরাই। 

চিকিৎসায় কী কী পদক্ষেপের প্রয়োজন, গত সপ্তাহের শেষে ডিজি (কারা) অরুণ গুপ্তকে লেখা চিঠিতে তা উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠি দিয়েছেন সদানলা রামকৃষ্ণ-সহ প্রেসিডেন্সি জেলের কিছু ‘রাজনৈতিক বন্দি’। চিঠিতে নিজেকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রামকৃষ্ণ। কিন্তু জেলের বর্তমান নিয়ম অনুসারে যাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রয়েছে, তাঁরা রাজনৈতিক বন্দি নন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্সি জেলে মাত্র এক জন আংশিক সময়ের ফার্মাসিস্ট রয়েছেন বলে অভিযোগ রামকৃষ্ণেদের। তাঁরা লেখেন, রোগীরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওষুধের জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু সেই ফার্মাসিস্ট আসেন বিকেল ৪টের পরে। জরুরি ক্ষেত্রেও জেল হাসপাতালে ঠিক সময়ে ওষুধ মেলে না। এসএসকেএম থেকে দেওয়া প্রেসক্রিপশনের ওষুধ পেতেও দীর্ঘ সময় লাগে। জেলের বাইরের হাসপাতালে রোগীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি চলে। ফলে রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষাও হয় না। এক জন পূর্ণ সময়ের দক্ষ ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন।

মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধৃত বন্দিদের চিকিৎসার বিষয়ে কিছু দিন আগে মানবাধিকার কমিশন এবং কারা দফতরকে চিঠি দিয়েছিল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। রাজ্যের বিভিন্ন জেলে ওই সব বন্দির সঙ্গে কথা বলে তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করছে কারা দফতর।

আলতাফ হুসেন নামে এক বন্দির চিকিৎসায় অবহেলায় অভিযোগ উঠেছিল। কারা সূত্রের খবর, জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে নাশকতার মামলায় অভিযুক্ত আলতাফের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আলতাফ যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর।