• শিবাজী দে সরকার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পর্যাপ্ত পুলিশের অভাব রাজ্যে

police
প্রতীকী ছবি।

Advertisement

লোকসভা ভোটের পরে রাজনৈতিক গোলমাল বেড়েছে। অন্য দিকে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের কাজের গতি বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে একাধিক নতুন ‘পুলিশ জেলা’। কিন্তু রাজ্যে পুলিশের সংখ্যা তুলনায় অনেক কম বলে অভিযোগ উঠেছে। 

প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্য পুলিশের ইনস্পেক্টর, সাব-ইনস্পেক্টর এবং কনস্টেবল পদ অধিকাংশই শূন্য। মূলত তাঁরাই বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা দফতর সামলান। কোনও গোলমাল হলে বা অপরাধ ঘটলে তাঁরাই প্রথমে সামাল দিতে যান। পর্যাপ্ত সংখ্যায় ইনস্পেক্টর, সাব-ইনস্পেক্টর এবং কনস্টেবল নিযুক্ত না হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় তার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছেন রাজ্য পুলিশের একাধিক কর্তাও। পাশাপাশি, পুলিশ কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক থানাকেই নির্ভর করতে হচ্ছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর। দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে থানার সাব-ইনস্পেক্টরদের সঙ্গে ছুটছেন সিভিক ভলান্টিয়াররা।

দীর্ঘদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার থানায় কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এক অফিসার জানান, দেখা যাচ্ছে অনেক থানায় ‘ডিউটি অফিসার’-এর কাজ ছাড়া বাকি সব কাজ করছেন সিভিক ভলান্টিয়াররাই। এমনকি ‘টেলিফোন ডিউটি’ কিংবা ‘কম্পিউটার ডিউটি’-ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে করিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন থানার ওসি বা আইসি-রা। তাতে থানার গোপনীয়তাও লঙ্ঘন হচ্ছে। সাব ইনস্পেক্টর বা কনস্টেবলদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সিভিক ভলান্টিয়ারদের তা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কাছে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। 

ভবানীভবন সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশে বর্তমানে সাব ইনস্পেক্টর (সরাসরি নিযুক্ত হওয়া) পদ শূন্য রয়েছে ১ হাজার ৬৯৮। কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে ২১ হাজার। একই অবস্থা ইনস্পেক্টর পদেও। সেখানেও শূন্য পদ ৫০০। ডিএসপি পদও ফাঁকা রয়েছে।

রাজ্য পুলিশের কর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, সরাসরি সাব ইনস্পেক্টর পদে গত কয়েক বছর ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ার ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই ফাঁকা পদ পূরণে কনস্টেবল এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনস্পেক্টর থেকে অফিসার পদে উন্নীত করা হয়েছে বেশ কিছু কর্মীকে। এ ছাড়া, সাব ইনস্পেক্টর পদেও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের কর্তারা স্বীকার করছেন, রাজ্যে ‘পুলিশ জেলা’র সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে পুলিশ কমিশনারেটের সংখ্যাও। তুলনায় পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুলিশ কর্মী নিয়োগ হয়নি। সেই নিয়োগ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এমনই পরিস্থিতি থাকবে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন