রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরে ক্লাবের সংস্কৃতি চলছে জুনে একটি মামলায় মন্তব্য করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত। স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে একটি মামলায় সোমবার আবার সেই ক্লাব-সংস্কৃতির কথা উঠল উচ্চ আদালতে। প্রশ্ন উঠল, রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব কি হাইকোর্টের উপরে?

চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি ফেরতের জন্য বন্ডের টাকা জমা দেওয়া নিয়ে একটি মামলায় প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে প্রশ্নটি তোলেন আবেদনকারী দেবাশিস ভট্টাচার্যের আইনজীবী কল্লোল বসু। একই সঙ্গে ওই আইনজীবীর অভিযোগ, রাজ্য সরকার চলছে ‘ক্লাব’-এর মতো।

কল্লোলবাবু জানান, বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী নির্দেশ দিয়েছেন, বন্ডের ১০ লক্ষ টাকা জমা নিয়ে দেবাশিস ভট্টাচার্যের হাতে নথি তুলে দিতে হবে। দেবাশিসবাবু বাঁকু়ড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে স্নাতকোত্তর পাঠ নিয়েছেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষকে বিচারপতির নির্দেশ দেখানো সত্ত্বেও দেবাশিসবাবু নথি পাননি। অভিযোগ, অধ্যক্ষ ওই চিকিৎসককে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসচিব তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন, নথি যেন ফেরত দেওয়া না-হয়।

ওই চিকিৎসক ২০১৪-’১৭ শিক্ষাবর্ষে প্যাথলজিতে এমডি পড়ে ডিগ্রি পান। স্বাস্থ্য দফতর বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, সরকারি খরচে পড়াশোনা করে এমডি-এমএস ডিগ্রি পেলে চিকিৎসকদের কমপক্ষে এক বছর সরকারি হাসপাতালে কাজ করতে হবে। নইলে বন্ড অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে রাজ্যকে।

দেবাশিসবাবুর আইনজীবী এ দিন আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল তেহট্ট সরকারি হাসপাতালে তিন বছর চাকরি করে সেই কাজ ছেড়ে দেন। এখন উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি বন্ডের টাকা জমা দিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি ফেরত পেতে চান। কিন্তু সরকার বন্ডের টাকা জমা নিচ্ছে না। নথিও ফেরত দিচ্ছে না। আদালতে আইনজীবীর অভিযোগ, সরকার নিজের প্রতিশ্রুতি পালন করছে না।

সরকারি আইনজীবী তপন মুখোপাধ্যায় আদালতে জানান, রাজ্য সরকার নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, এমডি ডিগ্রি প্রাপকদের ৩০ লক্ষ টাকার বন্ড জমা দিতে হবে। সেই অনুযায়ী বন্ডের ৩০ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে ওই চিকিৎসককে। কল্লোলবাবু তখনই মন্তব্য করেন, স্বাস্থ্য দফতর মহাজনের মতো, ক্লাবের সালিশি সভার মতো খামখেয়ালি আচরণ করছে।

তপনবাবু আদালতে জানান, রাজ্যের বক্তব্য তিনি হলফনামা দিয়ে জানাতে চান। চলতি সপ্তাহেই সেই হলফনামা পেশ করবে রাজ্য।