সহিষ্ণুতা, প্রাণশক্তি এবং ভালবাসা তো বটেই! সোমবার বিকেলে ‘ঘরের মেয়ে নবনীতা’র বেলায় যাদবপুর যোগ করল তাঁর ‘দজ্জালপনা’র কথাও।  

তাঁর প্রাণের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের পতাকাটি মেলে ধরতেই তো নবনীতা দেবসেনের এমন ‘দজ্জালপনার গাথা’। যাদবপুর বা তুলনামূলক সাহিত্যের নিন্দার প্রতিবাদে বিলেতে খোদ নীরদচন্দ্র চৌধুরীর সঙ্গেও মার্জিত কিন্তু কড়া সুরে ঝগড়া করতে কসুর করেননি নবনীতা। নবনীতার পরম সুহৃদ, বন্ধু, সহকর্মী অমিয় দেব সেই বহুচর্চিত গল্পটি শোনালেন। মনে করালেন, নীরদবাবু পরে ইতিহাসবিদ তপন রায়চৌধুরীকেও বলেছিলেন, মেয়েটি তো বে-শ দজ্জাল! 

সেই মেয়ের টানে যাদবপুরের গাঁধী ভবন উপচে পড়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের প্রস্তাব, ‘‘তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে নবনীতা দেবসেন স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হোক। পৃষ্ঠপোষকতা করবে বিশ্ববিদ্যালয়।’’ সেই সঙ্গে নবনীতার এক ঝাঁক অপ্রকাশিত কবিতা জড়ো করে প্রকাশের প্রস্তাবও দিয়েছেন সুরঞ্জনবাবু। 

নবনীতার দুই মেয়ে অন্তরা, নন্দনাদের মুখে মায়ের কবিতা। তার ছত্রে ছত্রে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর মৃত্যুঞ্জয়ী স্পর্ধার স্বাক্ষর! মাকে নিয়ে নন্দনার পুরনো লেখায় ভরপুর মায়ের গন্ধ! আবার সেই অন্তরঙ্গতা ছাপিয়ে এক ছক-ভাঙা মানুষের সৌন্দর্য। নবনীতার বেলায় চিরকেলে নিয়ম কী ভাবে পাল্টে যায়! অর্থনীতিবিদ সৌরীন ভট্টাচার্য বলছিলেন, তাঁদের সময়ে ছাত্র এবং ছাত্রীদের মধ্যে আপনির বেড়া পার হয়ে তুমি বলা অভাবনীয় ছিল। মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিয় দেব, সৌরীনবাবুরা নিজেরাই তো পরস্পরকে ‘আপনি-আজ্ঞে’ করে থাকেন! কিন্তু নবনীতার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম বাতিল। সৌরীনবাবুর কথায়, ‘‘নবনীতা তো আমার গুরুপত্নীও! তবু আপনি বলা গেল না!’’ 

সুরঞ্জনবাবু বলছিলেন, নবনীতাদির ধৈর্য, অন্যের কথা শোনার মনটা তো হারিয়েই যাচ্ছে আজকের ভারতে। তুলনামূলক বিভাগের শিক্ষক তথা নবনীতার পুরনো ছাত্রেরা বললেন, ক্লাসে এবং ক্লাসের বাইরে নবনীতাদির কাছে কত কী শেখার কথা! নবনীতার সেই ক্লাসের পরম্পরা অনর্গল বুকে বয়ে বেড়ানোর কথাই বলে গেল যাদবপুর।