ক্ষোভের যুগলবন্দি চলছে তো চলছেই! কলা বিভাগের ছ’টি বিষয়ে প্রবেশিকার প্রশ্নে ধর্মঘট পালন করেছেন পড়ুয়ারা। আর কর্মবিরতিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ। সব মিলিয়ে শুক্রবারেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা অব্যাহত।

প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এ দিনই আচার্য-রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে দেখা করেন। ইতিমধ্যে আরও দু’টি বিভাগের শিক্ষকেরা এ দিন জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ভর্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছেন না।

বিস্তর বিতর্কের পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কলা বিভাগের ছ’টি বিষয়ে প্রবেশিকার বদলে এ বার নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়া হবে। এর পিছনে রাজ্য সরকারের হাত রয়েছে বলেই মনে করছেন শিক্ষক ও পড়ুয়ারা। এ দিনের ছাত্র ধর্মঘট তারই প্রতিবাদে। কর্মবিরতি ডেকেছিল শিক্ষক সংগঠন জুটা। গাঁধী ভবনের সামনে অবস্থানে বসে তারা। তাঁরা প্রয়োজনে এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে জানান জুটা-র সহ-সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়।

বুধবার কর্মসমিতিতে নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই ঘেরাও হন উপাচার্য। তবে বৃহস্পতিবার মাঝরাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বাড়ি চলে যান তিনি। এ দিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি। সকালে প্রথমে সহ-উপাচার্য প্রদীপকুমার ঘোষকে নিয়ে তিনি যান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রীকে পরিস্থিতির কথা জানান উপাচার্য। পার্থবাবু তাঁর কাছে জানতে চান, তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে কেন? উপাচার্য জানান, তাঁর কাজ চালাতে অসুবিধা হচ্ছে। তাঁকে আচার্যের কাছে যেতে বলেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের এড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যান সুরঞ্জনবাবু। বিকেলে সহ-উপাচার্যকে নিয়ে রাজভবনে যান তিনি। রাজভবন সূত্রের খবর, আচার্য ত্রিপাঠীকে তিনি গত কয়েক দিনের ঘটনাবলির কথা মৌখিক ভাবে জানান। কী রকম কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে, রাজ্যপালকে সেটাও জানান তিনি। আচার্য তাঁকে পুরো বিষয়টি লিখিত ভাবে রিপোর্টের আকারে পেশ করতে বলেন। আচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী সুরঞ্জনবাবু রিপোর্টে কী লেখেন, সেটাই এখন দেখার।

প্রবেশিকা বন্ধের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বিভাগীয় প্রধান। তাই ক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের পোস্টার পড়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সামনে। —নিজস্ব চিত্র।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, ইংরেজি, তুলনামূলক সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনে প্রবেশিকার বদলে এ বার নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি করার কথা। এর বিরোধিতায় ইংরেজির অধিকাংশ শিক্ষক ভর্তি প্রক্রিয়ায় থাকবেন না বলে জানিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার। সেই পথেই এ দিন বাংলা ও তুলনামূলক সাহিত্যের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ভর্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তুলনামূলক সাহিত্যের বিভাগীয় প্রধান স্যমন্তক দাস বলেন, ‘‘শিক্ষকেরা যে-সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে আমার সম্পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’’ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, শিক্ষাতত্ত্ব বিভাগের দুই শিক্ষকও এই প্রতিবাদী শিক্ষকদের সমর্থনে ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকতে চাইছেন। এ দিন জুটা-র পক্ষ থেকে উপাচার্যকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা ঠিক কী?

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা পোস্টার দিয়েছেন, ‘এটা বিশ্বাসঘাতক বিভাগ’। কারণ, এই বিভাগের প্রধান ভর্তি কমিটির বৈঠকে জানিয়েছিলেন, ভর্তির বিষয়ে কর্মসমিতি যে-সিদ্ধান্ত নেবে, তাতেই তাঁর সম্মতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের অন্য শিক্ষক এবং পড়ুয়ারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।

 

ভর্তি বৃত্তান্ত

• নম্বরের ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তির আবেদন শুক্রবার থেকে আবার শুরু হল।

• ইংরেজি বিভাগের মতো বাংলা এবং তুলনামূলক সাহিত্যের অধিকাংশ শিক্ষক ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে এলেন।

• উপাচার্যকে চিঠি  দিয়ে জুটা জানতে চাইল, এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা কী।

আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা ধর্না-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, শুক্রবার বেলা ৩টের মধ্যে প্রবেশিকা না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না-করলে তাঁরা অনশনে বসবেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে না-আসায় পড়ুয়ারা যান রেজিস্ট্রার চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কাছে। রেজিস্ট্রার তাঁদের সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। রাতে কলা বিভাগের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক জানান, তাঁরা অনশনেই বসছেন।