এ যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ! যাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাইছেন, তাঁরাই তদন্ত থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছেন। নীলরতন সরকার হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের নিগ্রহের তদন্তে তাঁদের সে রকম মনোভাবই ফুটে উঠছে বলে কলকাতা পুলিশের একাংশের অভিযোগ।

এক দিকে তাঁরা রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রর সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য দরবার করছেন। আবার তাঁরাই তদন্ত থেকে ‘মুখ ফিরিয়ে’ রয়েছেন। এই দোলাচলে পড়ে থমকে রয়েছে তদন্তের আর একটি দিক।

এখনও পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেফতার করেছে এন্টালি থানা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তাদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। আরও কয়েক জনকে ধরার চেষ্টাও করা হচ্ছে। কিন্তু ১১ জুন রাতের ওই নিগ্রহের ঘটনার সাক্ষী হিসেবে যাঁদের এগিয়ে আসা উচিত, তাঁরাই সামনে আসছেন না বলে অভিযোগ উঠছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত চার জন প্রত্যক্ষদর্শীকে সাক্ষী হিসেবে দু’বার নোটিস পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাঁরা তদন্তকারীদের সঙ্গে দেখা করেননি বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের! দেড় মাসের ছেলেকে খুন করে খালে ভাসিয়ে দিল মা!

এই ঘটনায় যিনি সব থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। মৌখিক ভাবে পরিবহকে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দেখা করতে বলা হলেও, তিনি পুলিশের সঙ্গে দেখা করছেন না বলে জানা গিয়েছে। এক পুলিশ কর্তার কথায়, “তাঁর পরিবার হয়তো চাইছেন না, এই মামলায় পরিবহ জড়িয়ে যাক।” যদিও এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

হাসপাতালে পরিবহ মুখোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

ফলে তদন্ত শুরু হলেও, এ সব বিষয়ে সাহায্য না মেলায় চার্জশিট দিতে পারছে না এন্টালি থানা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জুনিয়র ডাক্তারা যে যে বিষয়ে দাবি করেছিলেন, ইতিমধ্যেই সে বিষয়ে পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুলিশ এবং স্বাস্থ্য দফতর। প্রতি হাসপাতালের পুলিশ আউটপোস্টে এক জন সহকারী নগরপাল মোতায়েন করা ছাড়াও পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ জানানোর জন্য চালু হয়েছে টোল ফ্রি নম্বরও। পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার পর্যন্ত তাতে মাত্র ৩৩টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে কলকাতার হাসপাতালগুলি থেকে অভিযোগ মাত্র ১১টি। বাকিগুলো সব জেলা হাসপাতালের অভিযোগ। কলকাতা পুলিশের এক পদস্থ অধিকারিক বলেন, “১১ জুনের পর এখনও পর্যন্ত হাসপাতালগুলিতে তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। যে ক’টি অভিযোগ এসেছে, তা সে রকম গুরুতর নয়। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি।”

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনায় আহত উন্নাওয়ের ধর্ষিতা ‘সঙ্কটজনক’, উত্তাল দেশ, খুনের মামলা বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে

জুনের ১১ তারিখে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ ওঠে। রোগীর আত্মীয় এবং পরিজনদের হাতে আক্রান্ত হন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের পাশে দাঁড়ান বিশিষ্টজনরা। সরব হন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা।

সোমবারও জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘এখনও আমাদের কিছু দাবি অপূর্ণ রয়েছে। এনআরএস-কাণ্ডে সিসি ক্যামেরা দেখে ১৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজের ঘটনাতেও গ্রেফতার হয়েছে। সরকারের কিছু পদক্ষেপ আমাদের পজিটিভ মনে হয়েছে। কিন্তু এখনও সব দাবি মানা হয়নি।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদের YouTube Channel - এ।