কী করেন আপনি, অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। অভিযুক্ত জানালেন, তিনি বাড়িতে ছাত্রছাত্রী পড়ান। শুনে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি বললেন, ‘‘আপনি পড়ান? আপনার বিরুদ্ধে যে-অভিযোগ উঠেছে, তাতে তো ছাত্রদের হাতে এ বার আপনার মার খাওয়া উচিত!’’

বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়ার বিস্ময়ের কারণ, শিক্ষক হয়ে ওই অভিযুক্ত তাঁর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবা ধনঞ্জয় মণ্ডল এবং মা কুমুদিনীদেবীর উপরে এমনই অত্যাচার চালিয়েছেন যে, তাঁরা ঘরছাড়া। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যে-ছেলের বিরুদ্ধে বাবা-মায়ের উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, বাবার বাড়িতে সেই ছেলের না-থাকাই ভাল। শুক্রবার বিচারপতি নির্দেশ দেন, তিন সপ্তাহের মধ্যে বাবার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে অভিযুক্ত প্রকাশ মণ্ডলকে।

উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া-চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা ধনঞ্জয়বাবুর আইনজীবী শুভাশিস পাছাল জানান, তাঁর মক্কেলের মেজো ছেলে প্রকাশ ও বৌমা অপর্ণা মণ্ডল চান, বাবা তাঁদের নামে বাড়ি লিখে দিন। তা না-করায় সাত বছর ধরে বাবা-মায়ের উপরে অত্যাচার চালাচ্ছেন তাঁরা। বৃদ্ধ দম্পতি ছোট মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

প্রকাশ এ দিন তাঁর আইনজীবী নরেন ঘোষ দস্তিদারের মাধ্যমে জানান, তাঁকে শেষ সুযোগ দেওয়া হোক। ধনঞ্জয়বাবুর আইনজীবী নথি দেখিয়ে জানান, এর আগে হলফনামা দিয়ে অভিযুক্ত জানিয়েছিলেন, তিনি বাবা-মায়ের উপরে অত্যাচার বন্ধ করবেন। তা তিনি করেননি। বিচারপতি পাথেরিয়া জানিয়ে দেন, এমন ছেলেকে আর কোনও সুযোগই দেওয়া হবে না।