অর্থ লগ্নি সংস্থা সারদার তছরুপের মামলায় নতুন পর্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা এবং বর্তমানে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের কথা তুললেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষ। শুধু তুললেনই না, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কাছে আবেদন জানালেন, মুকুলের সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করা হোক। পরে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুকুলও বলেন, ‘‘আমি এই ধরনের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে রাজি।’’

সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন তখন পলাতক। তাঁর হাতে তৈরি কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সংস্থার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে। চ্যানেল টেন, তারা, কলম-এর মতো সংস্থার কর্মীরা চাকরি খোয়ানোর আশঙ্কায় আতঙ্কিত। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা বিনিয়োগ সংস্থাগুলিকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। ঠিক কারা কারা সেই সময় অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, কারা বিষয়টি পরিচালনা করছিলেন, কারা মধ্যস্থতা করেন— এখন সেই সব তথ্য একত্র করছে সিবিআই এবং ইডি।

সারদার সব সংবাদমাধ্যমের মাথায় ছিলেন কুণাল। বুধবার এই প্রসঙ্গে ইডি-র প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। কিন্তু তদন্তকারীরা যে-সময়ের কথা জানতে চেয়েছেন, সেই সময়ের তথ্য তাঁর চেয়ে মুকুল বেশি ভাল ভাবে দিতে পারবেন বলে ইডি-কে জানান কুণাল। যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন তখনই জানান তিনি।

এই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে কুণাল বলেন, ‘‘অভিযুক্ত পুলিশকর্তা রাজীব কুমারের সঙ্গে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে রাজি হয়েছিলাম আমি। শিলংয়ে সেই জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলেছিল। এ বার আমি অনুরোধ করেছি, কিছু বিষয়ে মুকুলবাবুর সঙ্গে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়া হোক আমাকে।’’ ইডি সূত্রের খবর, সুদীপ্তের পলায়নের আগে ও পরে প্রাক্তন পুলিশকর্তা রজত মজুমদারের ভূমিকা নিয়েও এ দিন কুণালের কাছে বেশ কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সুদীপ্তের সংবাদমাধ্যমের ব্যবসা প্রসঙ্গে উঠে এসেছে চিত্রকর শুভাপ্রসন্নের কথাও। তাঁর সম্পর্কেও এ দিন কুণালের কাছে জানতে চাওয়া হয়। প্রসঙ্গ ওঠে ছবি বিক্রির। সব ক্ষেত্রেই কুণাল জানান, সেই সময় তৃণমূলের খুব গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন মুকুল। তাই তাঁর পক্ষে এ-সব আরও ভাল ভাবে বলা সম্ভব।