কলকাতায় কলসেন্টার জালিয়াতদের চক্রকে গারদে পুরে লন্ডন পুলিশের বাহবা কুড়িয়েছে লালবাজার। একটি আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার নাম করে পরিষেবা দেওয়ার ছলে ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রতারণার সেই মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে চাইছে তারা।

পুলিশি সূত্রের খবর, নভেম্বরের মধ্যে মামলাটি শেষ করে যাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া যায়, তদন্তকারীদের সেটা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লন্ডন থেকে ওই প্রতারণার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রতারিতদের বয়ান যাতে দ্রুত আনার চেষ্টাও চলছে। এক পুলিশকর্তা জানান, ওই তথ্যপ্রমাণ চার্জশিটের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাটাচমেন্ট ট্রিটির (এমএলএটি) মাধ্যমে কয়েক জন প্রতারিতের বয়ান এসেছে তাঁদের কাছে। বাকিদের বয়ানও যাতে তাড়াতাড়ি চলে আসে, তার জন্য লন্ডন পুলিশের সঙ্গে নির্দিষ্ট মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। 

একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার তরফে লালবাজারে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাদের নাম করে কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিক বা সংস্থাকে ঠকিয়েছে কলকাতার দু’টি কলসেন্টার। লন্ডন পুলিশের তরফেও যোগাযোগ করা হয় লালবাজারে। ১৭ অক্টোবর রাতে গোয়েন্দারা কলকাতার দু’প্রান্তের ওই দু’টি কলসেন্টারে হানা দিয়ে সাত জালিয়াতকে গ্রেফতার করেন। আদালত ধৃতদের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ল্যাপটপ, পেন ড্রাইভ, হার্ড ডিস্ক এবং অন্যান্য নথিপত্র। 

লালবাজারের এক কর্তা জানান, এই মামলার সঙ্গে কলকাতা পুলিশ সুনাম জড়িয়ে রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই যে-ক্ষিপ্রতায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে খুশি লন্ডন পুলিশ। তাই লালবাজারের শীর্ষ কর্তারা চান, কলকাতা পুলিশ সেই সুনাম বজায় রেখে দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের সাজা নিশ্চিত করুক। 

পুলিশেরই একটি অংশ জানায়, ওই মামলায় ধৃতেরা প্রভাবশালী। তা ছাড়া এত বড় প্রতারণার ঘটনা সম্প্রতি কালে ঘটেনি। তাই আট ঘাট বেঁধে তদন্ত চলছে। প্রতারিতদের বয়ান খুব জরুরি। বিলেত থেকে সেগুলো আনানোর জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিচার চলাকালীন তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন হলে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে তা করা হতে পারে।