মেগা ট্যুরজিম হাব গজলডোবার ভোরের আলো প্রকল্পকে ঘিরে ‘ল্যান্ড মাফিয়া’রা সক্রিয় বলে মন্তব্য করলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই এলাকাকে ঘিরে রাজ্য সরকারের তৈরি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ঠিকঠাক কাজ করছে না বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার, জেলাশাসককে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে সিআইআই, নর্থবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিজ় অ্যাসোসিয়েশনের মতো বণিক সংগঠনগুলি মুখ্যমন্ত্রীর সফটওয়্যার পার্ক থেকে ভোরের আলো-এ বোটিং, ফিসিং-এর ব্যবস্থা করার মতো প্রস্তাব দেব।

যা শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘গজলডোবায় পরিকাঠামো, আয় বাড়াতে হবে। পর্যটকদের কাছে এলাকাকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে। একটা বোর্ড করে দিয়েছিলাম। তবে কেউ ঠিকমতো দেখছে না। সবাইকে আলাদা করে দায়িত্ব নিতেই হবে। এখন যে ইচ্ছা বসে পড়ছে। ল্যান্ড মাফিয়ারা এ সব করছে। এটা কোনওভাবেই চলবে না।’’

শিলিগুড়ি শহর থেকে গজলডোবা প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে ভোরের আলো পর্যটন প্রকল্পটি তৈরি হয়েছে। তিস্তা ক্যানালকে ঘিরে পর্যটনের কাজ শুরু হতেই এলাকায় জমির কারবার শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ। পুলিশ-প্রশাসন সূত্রের খবর, ক্যানালের ধার থেকে উল্টো দিকের জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় জমি কেনাবেচা চলছেই। আবার বেশ কয়েকটি জায়গায় জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। কম দামে জমি কিনে বা দখল করে তা কেনাবেচার একটি চক্র এলাকায় সক্রিয়। সম্প্রতি এমনই কিছু অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কানে পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও শাসকদলের একাংশের মদতে তা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেছেন, ‘‘জমি নিয়ে কোনও বেআইনি বা মাফিয়া কারবার বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বারবার সতর্ক করছেন। পুলিশ-প্রশাসনকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে বা খবর পেলেই সঙ্গে সঙ্গে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।’’

এর আগেও গত বছর উত্তরকন্যার প্রসাসনিক বৈঠক থেকে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি, পুলিশ-প্রশাসনের কেউ এই চক্রে জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থার কতা বলে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট জুড়ে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে পুলিশ।

জলপাইগুড়ির জেলার অধীনে হলেও ভোরের আলো পুলিশ কমিশনারেটের অংশ। পুলিশ সূত্রের খবর, সেই সময় টানা ধরপাকড়ে ৫৫ জন গ্রেফতার হন। সরকারি জমি দখল করে বাজার বসানোর অভিযোগে জয়প্রকাশ চৌহান ওরফে হিম্মতের মতো তৃণমূল নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বিভিন্ন নাম, অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই শাসক দলের অন্দরে আলোড়ন পড়ে যায়। বর্তমানে পুলিশের জমি কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান থমকে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

উত্তরবঙ্গের এক পুলিশ কর্তা জানান, ফুলবাড়ি, রাজগঞ্জ থেকে ভোরের আলো, ইস্টার্ন বাইপাস থেকে চম্পাসারি, মাটিগাড়া বা নকশালবাড়িতে জমি দখলের ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। ল্যান্ড মাফিয়াদের সঙ্গে শাসক দলের একাংশ নামও জড়িয়েছে। তেমনিই এই বেআইনি কারবারে নাম জড়িয়েছে ভূমি রাজস্ব দফতরের একাংশ অফিসারের।  মুখ্যমন্ত্রী দুই দফায় জমির কারবারীদের নিয়ে বলায় অনেকেই এ বার নিশ্চয়ই সতর্ক হয়ে যাবেন।